বিবিসির বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি প্রাণীর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত জনপ্রিয় হলেও এগুলো বাস্তবতার প্রতি মানুষের আস্থা কমিয়ে দিচ্ছে। একসময় বিনোদনের উৎস হিসেবে দেখা প্রাণীর ভিডিও এখন সত্য নাকি এআই দিয়ে তৈরি—এমন সন্দেহের জন্ম দিচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষ প্রাণীর ভিডিও দেখে যে আবেগ বা সংযোগ অনুভব করত, এআই-নির্মিত কনটেন্ট সেই অনুভূতিকে দুর্বল করে দিচ্ছে। একই সঙ্গে এ ধরনের ভুয়া কনটেন্টের প্রতি মানুষের সহনশীলতা বাড়লে ভবিষ্যতে রাজনৈতিক প্রচারণা, দুর্যোগ বা অপরাধসংক্রান্ত বিভ্রান্তিকর তথ্যও সহজে গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠতে পারে।
বিবিসির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এআই-নির্ভর কনটেন্টের বিস্তার বাস্তব কনটেন্ট নির্মাতাদের জন্যও নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। কারণ এআই অল্প সময়েই বিপুল পরিমাণ ভিডিও তৈরি করতে পারে, যা প্রকৃত নির্মাতাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা আরও কঠিন করে তুলছে এবং মানসম্মত কনটেন্টের আর্থিক মূল্য কমিয়ে দিতে পারে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বিশ্লেষকদের মতে, প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে মানুষকে তথ্য যাচাইয়ের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোকেও এআই-নির্মিত কনটেন্ট শনাক্ত ও স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করার কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় অনলাইনে সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য নির্ধারণ আরও কঠিন হয়ে উঠবে।
















