আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফিরবেন—এমন আলোচনার কোনো বাস্তবতা নেই বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ও ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ।
সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেলে ভোলা সদর উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের মাদরাসা বাজার এলাকায় সরকারের খাল খনন কর্মসূচির কাজ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, “শেখ হাসিনা দেশে আসছেন—এটি দলকে টিকিয়ে রাখার জন্য একটি রাজনৈতিক বক্তব্য ছাড়া আর কিছুই নয়। এর কোনো বাস্তবতা নেই।”
তিনি আরও বলেন, “জুলাইকে অস্বীকার করে দেশে আসা তো দূরের কথা, রাজনীতিতে ফিরে আসাও আমার কাছে খুব কঠিন মনে হয়। জুলাইয়ের যে রক্ত, আত্মত্যাগ এবং তরুণ প্রজন্মের যে অবস্থান তৈরি হয়েছে, তা অস্বীকার করে রাজনীতির কথা চিন্তা করাও বোকামি।”
এর আগে সোমবার দুপুরে ভোলা সদর উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের ভোলার খালসংলগ্ন নদীভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেন সংসদ সদস্য আন্দালিব রহমান পার্থ। এ সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের দুর্ভোগের কথা শোনেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে চলমান নদীভাঙনের কারণে বসতভিটা, কৃষিজমি ও বিভিন্ন স্থাপনা হারানোর বিষয় তুলে ধরে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
পরিদর্শন শেষে আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, গত ১৭ বছরে নদীভাঙন রোধে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ও এ বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি বলে তিনি মন্তব্য করেন। এর ফলে ভোলার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, নদীভাঙন শুধু মানুষের বসতভিটাই নয়, কৃষিজমি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর জন্যও বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
ভোলা-১ আসনের এই সংসদ সদস্য আরও বলেন, সরকার ভোলাকে নদীভাঙনের ঝুঁকি থেকে রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আগামী একনেক বৈঠকে বড় বাজেট অনুমোদন হলে নদীভাঙন প্রতিরোধে স্থায়ী প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
পরে তিনি ভোলা সদর উপজেলার আলীনগর ও ধনিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় চলমান খাল খননকাজ পরিদর্শন করেন।
এ সময় ভোলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জিয়া উদ্দিন আরিফ, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সজল কুমার দাস, প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তা এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
















