ছয় দিন গত হতে চললেও অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) নিয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছেন না কেউই। কবে নাগাদ এটি চালু হতে পারে, সে বিষয়ে ধারণা দিতে পারছেন না জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ কিংবা পেট্রোবাংলা।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের মুখপাত্র, যুগ্মসচিব মনির হোসেন চৌধুরী বার্তা২৪.কমকে বলেছেন, দেশি-বিদেশি প্রকৌশলীরা কাজ করছেন। শর্ট সার্কিটের কারণে বৈদ্যুতিক কেবল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেগুলো পরীক্ষার কাজ চলছে। আমরা চেষ্টা করছি যত দ্রুত সম্ভব এফএসআরইউ সচল করতে।
ঠিক কবে নাগাদ চালু হতে পারে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এই মুহূর্তে সুনির্দিষ্ট করে সময় বলা কঠিন।
অন্যদিকে, পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মাইনস) প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম বলেছেন, আমরা দ্রুত চালু করার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা গ্রহণ করেছি। তবে এই মুহূর্তে সুনির্দিষ্ট কোনো সময় বলা যাচ্ছে না। এমন হতে পারে, দু-এক দিনের মধ্যে মেরামতের কাজ শেষ হবে। আবার সময় আরও বেশি লাগতেও পারে।
মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত ভাসমান এলএনজি টার্মিনালটির ওপর নির্ভর করছে অনেক কিছু। এটি সচল না হওয়া পর্যন্ত দেশের গ্যাস সংকট দূর হওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। খোদ রাজধানীর অনেক এলাকায় চার দিন ধরে দিনের বেলায় গ্যাস মিলছে না। এতে অনেকের বাসায় রান্না বন্ধ হয়ে গেছে। হোটেল থেকে খাবার কিনে খেতে হচ্ছে তাদের। লাইনের গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল হোটেলগুলো বন্ধ থাকায় সংকট আরও বেড়েছে। অন্যদিকে, সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। অনেকে গ্যাস না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে। গ্যাস সংকটের কারণে শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে বলে দাবি করেছেন ব্যবসায়ী নেতারা।
গত ২১ জুলাই বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত ভাসমান টার্মিনালে। দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে বয়লার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। এফএসআরইউ মেরামতের জন্য বিদেশ থেকে প্রকৌশলী আনা হয়েছে। আরও সপ্তাহখানেক সময় লাগতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকেই। আবার কারও কারও মতে, মেরামতের কাজ আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার শঙ্কাও রয়েছে।
বর্তমানে প্রতিশ্রুত গ্রাহকদের দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৫ হাজার ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এর বিপরীতে প্রায় ৪ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট চাহিদা বিবেচনায় কমবেশি ২ হাজার ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট সরবরাহ দেওয়া হতো। একটি ভাসমান টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সরবরাহ ২ হাজার ১৪৫ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে এসেছে। যে কারণে কয়েক দিন ধরেই ভয়াবহ গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে।
একসময় দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রগুলো থেকে দৈনিক প্রায় ২ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদিত হলেও এখন তা ১ হাজার ৬৪৫ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে এসেছে। মজুত কমে যাওয়ায় প্রতিনিয়ত উৎপাদনও কমছে। ঘাটতি সামাল দিতে ২০১৮ সালে এলএনজি আমদানি শুরু করা হয়। এ জন্য দুটি এফএসআরইউ (ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল) স্থাপন করা হয়েছে, যার মাধ্যমে সর্বোচ্চ ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব। একটি বন্ধ থাকায় প্রায় ৫৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সরবরাহ কমে গেছে।
বাংলাদেশের গ্যাস খাত ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বাড়ন্ত চাহিদার বিপরীতে প্রতিদিনই কমছে দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন। চাইলেও সহসা আমদানি বাড়ানোর সুযোগ নেই। আমদানি বাড়াতে হলে নতুন এলএনজি টার্মিনাল ও পাইপলাইন স্থাপন করতে হবে, যা অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ। সে কারণে ২০২৭ ও ২০২৮ সালে গ্যাস সংকট আরও প্রকট হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। ওই সংকট মোকাবিলায় যেসব উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন, সেগুলোর বাস্তবায়নে এখনো উল্লেখযোগ্য গতি দৃশ্যমান নয়।
















