১২ জানুয়ারি ২০২৬: মিয়ানমারের জাতীয় ঐক্য সরকার বা National Unity Government (এনইউজি) আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে শুরু হতে যাওয়া শুনানিকে স্বাগত জানিয়েছে এবং স্পষ্ট করে বলেছে, সামরিক জান্তা সরকারের মিয়ানমারের পক্ষে কথা বলার কোনো বৈধতা নেই।
৯ জানুয়ারি দেওয়া এক বিবৃতিতে এনইউজি জানায়, International Court of Justice-এ দ্য গাম্বিয়া বনাম মিয়ানমার মামলার পরবর্তী ধাপের শুনানি ১৩ জানুয়ারি শুরু হওয়ার কথা। এনইউজি মনে করে, এই শুনানি রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী এবং মিয়ানমারের ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জনগণের প্রতিনিধিত্বকারী সরকার হিসেবে তারা আইসিজের এখতিয়ার মেনে নিয়েছে এবং আগের সব প্রাথমিক আপত্তি প্রত্যাহার করেছে।
এনইউজির বিবৃতিতে স্বীকার করা হয়, অতীতের ব্যর্থতার কারণেই রোহিঙ্গা, রাখাইনসহ বিভিন্ন সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ভয়াবহ অপরাধ সংঘটিত হয়েছিল। তারা জানায়, এমন অপরাধ আর যেন না ঘটে, সে জন্য কাঠামোগত পরিবর্তনের পথে এগোতে তারা অঙ্গীকারবদ্ধ, যাতে মিয়ানমারের সব মানুষ শান্তি, মর্যাদা ও পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে একসঙ্গে বসবাস করতে পারে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সামরিক বাহিনী ও জনগণের মধ্যে দীর্ঘদিনের সংঘাতের স্থায়ী সমাধানের জন্য ন্যায়বিচার অপরিহার্য। আন্তর্জাতিক বিচার ব্যবস্থাগুলো, বিশেষ করে আইসিজে, ন্যায়ভিত্তিক ও টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার।
এনইউজি দাবি করেছে, ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সংঘটিত অবৈধ সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকেই তারাই আইসিজের সামনে মিয়ানমারের একমাত্র বৈধ প্রতিনিধি। সে বছরের মার্চে জাতিসংঘে মিয়ানমারের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত কিয়াও মো তুনকে মামলার অতিরিক্ত বিকল্প প্রতিনিধি হিসেবে মনোনীত করা হয়েছিল এবং তা আনুষ্ঠানিকভাবে আইসিজেকে জানানো হয়।
এনইউজির মতে, সামরিক জান্তা সরকার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের স্বীকৃতি পায়নি এবং মিয়ানমারের জনগণের সমর্থনও তাদের নেই। তাই রাষ্ট্রের পক্ষে আইসিজেতে বক্তব্য দেওয়ার কোনো অধিকার তাদের নেই। সহিংসতা, দমন-পীড়ন ও ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে আয়োজন করা তথাকথিত নির্বাচনের মাধ্যমে কোনো সরকার বৈধতা অর্জন করতে পারে না বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
এনইউজি সতর্ক করে বলেছে, আইসিজেতে জান্তা সরকারকে মিয়ানমারের প্রতিনিধি হিসেবে মেনে নেওয়া হলে তা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীসহ দেশের সব মানুষের মর্যাদার পরিপন্থী হবে। একই সঙ্গে তারা জানায়, আইসিজে সংক্রান্ত সব আইনি অধিকার তারা সংরক্ষণ করবে এবং জান্তা সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া কোনো বক্তব্য বা নথি মিয়ানমারের জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন নয়।
















