পাকিস্তান সরকার আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের কার্যক্রমে নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, বিদেশি সংবাদমাধ্যমে কর্মরত বিদেশি ও পাকিস্তানি সাংবাদিকদের ইসলামাবাদ, করাচি ও লাহোরের বাইরে যেকোনো স্থানে সংবাদ সংগ্রহের আগে সরকারি অনুমতি বা ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’ (এনওসি) নিতে হবে।
সরকারের প্রকাশিত ‘ফরেন মিডিয়া ফ্যাসিলিটেশন গাইডলাইনস-২০২৬’ নিয়ে দেশটির সাংবাদিক সংগঠন ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাদের অভিযোগ, এ ধরনের নিয়ম আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের স্বাধীনভাবে মাঠপর্যায়ে কাজ করার সুযোগ সীমিত করবে এবং ভুয়া তথ্য ও বিভ্রান্তি ছড়ানোর ঝুঁকি বাড়াবে।
সরকারের দাবি, এই নির্দেশিকার উদ্দেশ্য সংবাদমাধ্যমকে বাধা দেওয়া নয়; বরং বিদেশি সাংবাদিকদের পরিচয় যাচাই, সমন্বয় এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সহজ করা। তবে নির্দেশিকায় এনওসি পেতে কত সময় লাগবে, সে বিষয়ে কোনো সময়সীমা উল্লেখ করা হয়নি।
ডন পত্রিকার সম্পাদক জাফর আব্বাস বলেন, চার দশকের সাংবাদিকতা জীবনে সামরিক ও বেসামরিক বিভিন্ন সরকারের সময় কাজ করলেও তিনি এমন কঠোর ভ্রমণ-নিয়ন্ত্রণ আগে দেখেননি। তার মতে, এটি সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের চলাচলের অধিকারের ওপর সরাসরি হস্তক্ষেপ।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সালাহউদ্দিন আহমেদের মতে, এই নির্দেশিকার কোনো স্বতন্ত্র আইনগত ভিত্তি নেই এবং এটি কেবল প্রশাসনিক আদেশ।
নতুন বিধিনিষেধ নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরকে কেন্দ্র করে। সম্প্রতি বিদেশি সংবাদমাধ্যমগুলোকে ওই অঞ্চল ছেড়ে অবিলম্বে ফিরে এসে এনওসি নেওয়ার নির্দেশ পাঠানো হয়েছে। গত কয়েক মাস ধরে সেখানে বিক্ষোভ, নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান ও প্রাণহানির ঘটনায় আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদন প্রকাশের পরই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে, আন্তর্জাতিক সাংবাদিকদের একটি প্রতিনিধিদল এবং পাকিস্তান ফেডারেল ইউনিয়ন অব জার্নালিস্টসের নেতারা বিষয়টি নিয়ে তথ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের উদ্যোগ নিয়েছেন।















