মার্কিন ডলারের বিপরীতে জাপানের মুদ্রা ইয়েন ৪০ বছরের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যাওয়ার পর গত সপ্তাহে যৌথভাবে বাজারে হস্তক্ষেপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান। এর লক্ষ্য ছিল ইয়েনের দরপতন ঠেকিয়ে বৈশ্বিক আর্থিক বাজারে সম্ভাব্য অস্থিরতা রোধ করা।
মুদ্রাবাজারে হস্তক্ষেপ বলতে সরকার বা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বড় পরিমাণে বৈদেশিক মুদ্রা কেনাবেচার মাধ্যমে নিজ দেশের মুদ্রার মূল্য স্থিতিশীল রাখার প্রচেষ্টাকে বোঝায়। ৩১ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ ইউরো বিক্রি করে ইয়েন কেনা শুরু করে এবং একই সময়ে জাপানও ব্যাপকভাবে ইয়েন ক্রয় করে। এর ফলে ইয়েনের বিনিময় হার ডলারের বিপরীতে ১৬৩ থেকে শক্তিশালী হয়ে ১৫৭-এ উঠে আসে।
বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিনের নিম্ন সুদের হার, অর্থনৈতিক স্থবিরতা এবং সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ইয়েন দুর্বল হয়েছে। জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক অর্থনীতি চাঙা রাখতে বহু বছর ধরে অত্যন্ত কম সুদের হার বজায় রেখেছে, যা ইয়েনের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। যদিও দুর্বল ইয়েন রপ্তানি ও পর্যটনে সুবিধা দিয়েছে, তবে আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার খরচও বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র জাপানকে সহায়তা করেছে মূলত নিজেদের আর্থিক স্বার্থ রক্ষার জন্য। ইয়েনের দরপতন অব্যাহত থাকলে জাপানকে নিজস্ব মুদ্রা রক্ষায় বিপুল পরিমাণ মার্কিন ট্রেজারি বন্ড বিক্রি করতে হতে পারে, যা যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার ও ঋণের ব্যয় বাড়িয়ে বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থায় অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।
তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, এই যৌথ হস্তক্ষেপ স্বল্পমেয়াদে ইয়েনকে সহায়তা করলেও দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতা আনতে জাপানকে সুদের হার আরও বাড়ানোসহ মৌলিক অর্থনৈতিক সংস্কার করতে হবে। অন্যথায় বাজারের মৌলিক অর্থনৈতিক বাস্তবতা আবারও ইয়েনকে দুর্বল করে দিতে পারে।















