নির্বাচন ও আর্থিক সংকটে নতুন বেতন কাঠামো স্থগিত, পে কমিশনের প্রতিবেদন যাবে পরবর্তী সরকারের হাতে
অন্তর্বর্তী সরকার পে স্কেল ঘোষণা করবে না, তবে ১:৮ অনুপাতের নতুন কাঠামোর ফ্রেমওয়ার্ক প্রস্তুত করছে পে কমিশন
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও দেশের চলমান আর্থিক সংকটের কারণে সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন পে স্কেল ঘোষণা থেকে সরে আসছে অন্তর্বর্তী সরকার। তবে এ জন্য গঠিত জাতীয় পে কমিশনকে কাজ চালিয়ে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং তারা একটি পূর্ণাঙ্গ বেতন কাঠামোর ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করে সরকারের কাছে জমা দেবে।
কমিশনের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে নতুন পে স্কেল কার্যকর করা সম্ভব নয়। তাই কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন নির্বাচিত নতুন সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। সে সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সেটি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেবে। ততদিন পর্যন্ত সরকারি চাকরিজীবীরা বিদ্যমান বিধি অনুযায়ী মহার্ঘ ভাতা পেতে থাকবেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরও জানিয়েছেন, আসন্ন নির্বাচনের আগে নতুন পে স্কেল ঘোষণার কোনো বাস্তব সম্ভাবনা নেই। তাঁর মতে, এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নতুন সরকারের নেওয়াই যুক্তিসঙ্গত।
পে কমিশনের সূত্র জানায়, নতুন বেতন কাঠামোর জন্য তিনটি অনুপাত—১:৮, ১:১০ ও ১:১২—পর্যালোচনা করা হয়েছে। এর মধ্যে ১:৮ অনুপাতকে ভিত্তি হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়েছে, যেখানে সর্বোচ্চ গ্রেডের বেতন হবে সর্বনিম্ন গ্রেডের আট গুণ। সর্বনিম্ন বেতন নিয়ে ২১ হাজার, ১৭ হাজার ও ১৬ হাজার টাকা—এই তিনটি প্রস্তাব আলোচনায় রয়েছে।
অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, কমিশনকে দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থা ও মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় নিয়ে সময়োপযোগী একটি কাঠামো প্রস্তাব করতে বলা হয়েছে। তিনি জানান, অন্তর্বর্তী সরকার সময় পেলে কাঠামো ঘোষণা করবে, তবে বাস্তবায়ন করবে নতুন সরকার।
কমিশনের প্রস্তাবনায় কেবল বেতন বৃদ্ধি নয়, মূল্যস্ফীতি, নিত্যপণ্যের দাম, পরিবারের ব্যয়, আবাসন ও শিক্ষা খরচের মতো সূচকও অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এই ফ্রেমওয়ার্কই ভবিষ্যতের নবম পে স্কেল নির্ধারণে মূল ভিত্তি হবে।
উল্লেখ্য, জাতীয় বেতন কমিশন ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই গঠিত হয়, যার চেয়ারম্যান সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খান। কমিশনের মেয়াদ ফেব্রুয়ারিতে শেষ হচ্ছে, যা জাতীয় নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে সম্পন্ন হবে।
















