কেনিয়ার অ্যাম্বোসেলি জাতীয় উদ্যানের আশপাশে গত জুন ও জুলাই মাসে ১৫টি হাতির রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় কীটনাশকের ভূমিকা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। কেনিয়া ওয়াইল্ডলাইফ সার্ভিস (কেডব্লিউএস) প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, টমেটো খেতে ব্যবহৃত সায়ানাইডযুক্ত কীটনাশকের বিষক্রিয়ায় হাতিগুলোর মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।
কেডব্লিউএস জানায়, মৃত কয়েকটি হাতির শরীরে আংশিক পক্ষাঘাতের লক্ষণ দেখা গেছে এবং তাদের পাকস্থলীর নমুনায় সায়ানাইডের উপস্থিতি মিলেছে। তবে এটি ইচ্ছাকৃত বিষপ্রয়োগ নাকি দুর্ঘটনাবশত ঘটেছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
অন্যদিকে সংরক্ষণবিদ ও স্থানীয় বাসিন্দারা এই ব্যাখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের মতে, হাতির মতো বড় প্রাণীকে হত্যা করতে বিপুল পরিমাণ বিষ প্রয়োজন। এছাড়া যদি কীটনাশকই কারণ হতো, তাহলে একই এলাকায় খাদ্য সংগ্রহ করা জেব্রা, অ্যান্টিলোপ বা অন্যান্য বন্য প্রাণীরও মৃত্যু হওয়ার কথা।
২০২৪ সালের এক গবেষণায় কিমানা এলাকায় সায়ানাইড-জাতীয় উপাদানসমৃদ্ধ নিষিদ্ধ কীটনাশক ব্যবহারের তথ্য উঠে এসেছিল। বিশেষজ্ঞদের অভিযোগ, তানজানিয়া সীমান্ত দিয়ে অবৈধ কৃষি রাসায়নিক সহজেই কেনিয়ায় প্রবেশ করছে এবং এ বিষয়ে নজরদারি দুর্বল।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, হাতি প্রায়ই ফসলের ক্ষতি করে। তবে তারা বলছেন, এত বছর ধরে বন্যপ্রাণীর সঙ্গে বসবাস করলেও এমন ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যাম্বোসেলি অঞ্চলে কৃষিজমি ও অবকাঠামো সম্প্রসারণের কারণে মানুষ ও বন্যপ্রাণীর সংঘাত বেড়েই চলেছে। তবে হাতিগুলোর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে আরও বিস্তৃত বৈজ্ঞানিক তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে।
















