ভারতে সাম্প্রতিক যুব নেতৃত্বাধীন শিক্ষা সংস্কার আন্দোলন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারকে উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল করেছে বলে দাবি করেছেন শিক্ষা সংস্কারক ও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা আন্দোলন তরুণদের মধ্যে পরিবর্তন আনার আত্মবিশ্বাস সৃষ্টি করেছে এবং সরকারকে বড় ধরনের রাজনৈতিক চাপে ফেলেছে।
ওয়াংচুক জানান, তিনি দিল্লিতে ২৬ দিন অনশন পালন করেন। আন্দোলন তীব্র হওয়ার পর ২৫ জুলাই শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন। এরপর সরকার পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার, দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল গঠন এবং ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণের মতো পদক্ষেপ ঘোষণা করে।
তবে ওয়াংচুকের মতে, সমস্যার মূল কারণ ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থা ও দীর্ঘদিনের উচ্চ শিক্ষিত বেকারত্ব। তিনি বলেন, বর্তমান পরীক্ষা পদ্ধতি চাকরির বাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং মুখস্থনির্ভর মূল্যায়নের পরিবর্তে ব্যবহারিক দক্ষতা ও সক্ষমতাভিত্তিক শিক্ষা চালু করা প্রয়োজন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, আন্দোলনে অংশ নেওয়া অনেক শিক্ষার্থী ও কর্মী এখনো মামলা, পুলিশি হয়রানি এবং অনলাইন নিপীড়নের মুখোমুখি হচ্ছেন। তবুও তিনি মনে করেন, তরুণদের মধ্যে ঐক্য ও আত্মবিশ্বাস বেড়েছে এবং সরকার জনগণের দাবি উপেক্ষা করলে ভবিষ্যতে শিক্ষা ছাড়াও অন্যান্য ইস্যুতে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে উঠতে পারে।
ওয়াংচুক বলেন, সরকারের এখনো ভুল সংশোধনের সুযোগ রয়েছে। তবে তিনি নিজে রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা নেই বলেও স্পষ্ট করেন।
















