Dhaka ১১:৫৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী ঠাকুরগাঁও-১ ও সংরক্ষিত আসনের নবনির্বাচিত ২ সংসদ সদস্যের শপথগ্রহণ আজ

ইরানের বন্দর লেঙ্গেহতে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা, দফায় দফায় বিকট বিস্ফোরণ

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ১১:২৫:০৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
  • ৫ বার দেখা হয়েছে

ইরানের দক্ষিণ উপকূলে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কেশম দ্বীপের পর এবার দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় সামরিক ও বাণিজ্যিক বন্দর শহর ‘লেঙ্গেহ’-তে আজ মঙ্গলবার ভোরে দফায় দফায় বিকট বিস্ফোরণের বিকট শব্দ শোনা গেছে। মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কৌশলগত এসব লক্ষ্যবস্তুতে সরাসরি বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। তবে এই আকস্মিক বিমান হামলায় বিস্ফোরণের মূল উৎস, প্রাণহানি কিংবা বস্তুগত ক্ষয়ক্ষতির সঠিক বিবরণী তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

আজ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ভোরে ইরানের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো কেশম দ্বীপ এবং বন্দর লেঙ্গেহ এলাকায় পরপর বেশ কয়েকটি বিকট বিস্ফোরণের খবর প্রকাশ করে। পরবর্তীতে মার্কিন প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বরাতে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এই সংক্রান্ত চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট প্রকাশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে তুরস্কের আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা আনাদোলু।

এমন এক জটিল মুহূর্তে মার্কিন হামলার এই চাঞ্চল্যকর খবর প্রকাশ্যে এল, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে নতুন করে বড় ধরনের দীর্ঘমেয়াদী সামরিক সংঘাত বা যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনাকে রাজনৈতিকভাবে কিছুটা খাটো করে দেখার বা দেখানোর চেষ্টা করছেন। উল্লেখ্য, আজ মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বহুল আলোচিত মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

গতকাল স্থানীয় সময় সোমবার (২ নভেম্বর) নির্বাচনী প্রচারের ফাঁকে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প দাবি করেন, “ইরানের সঙ্গে আমাদের যুদ্ধ শেষ হয়েছিল এবং সেই যুদ্ধে আমরা সম্পূর্ণ জিতেছি।” তিনি কিছুটা ব্যাখ্যা দিয়ে আরও যোগ করেন, “এটাকে আদৌ একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ বলা যায় কি না, তা আমার জানা নেই। কারণ, গত কয়েক মাস ধরে আমরা দুই পক্ষ কোনো সরাসরি মুখোমুখি লড়াইয়ে লিপ্ত হইনি।”

তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই ধরনের রাজনৈতিক মন্তব্যের ঠিক বিপরীতে দাঁড়িয়ে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা সাফ জানিয়েছেন, গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই ইরানের উপকূলীয় বিভিন্ন কৌশলগত সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ছোট ছোট পরিসরে ধারাবাহিক বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে মার্কিন সশস্ত্র বাহিনী। প্রতিরক্ষা বিভাগের কয়েকজন পদস্থ কর্মকর্তা এই সামরিক অভিযানগুলোকে মূলত নিজেদের কৌশলগত ‘প্রতিরক্ষামূলক’ পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য ও যুক্তি অনুযায়ী, বিশ্ববাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ নিরাপদে চলাচলের ক্ষেত্রে যেকোনো ধরনের প্রত্যক্ষ হুমকি তৈরি করা অথবা কোনো জলযানে আকস্মিক হামলা চালানোর সামরিক সক্ষমতা অর্জনের সুযোগ থেকে ইরানকে পুরোপুরি বিরত রাখতেই এই আগাম বিমান অভিযানগুলো পরিচালিত হচ্ছে।

এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ‘ইরনা’ জানিয়েছে, কেশম দ্বীপে পরপর অন্তত পাঁচটি বিকট বিস্ফোরণের বিকট শব্দ শোনা গিয়েছে। অন্যদিকে দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ‘ফার্স’ নিশ্চিত করে জানিয়েছে, হরমোজগান প্রদেশের সমুদ্র উপকূলীয় কৌশলগত শহর বন্দর লেঙ্গেহতে সাগরের দিক থেকে পর পর কয়েকটি ভয়াবহ বিস্ফোরণের শব্দ ভেসে আসে।

তবে আজ ভোরের এই আকস্মিক বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট সামরিক কারণ সম্পর্কে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমগুলো তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কিছু প্রকাশ করতে পারেনি। ঘটনাটিতে এখন পর্যন্ত কোনো মানুষ নিহত বা আহত হয়েছেন কি না, কিংবা অবকাঠামোগত কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে—সে বিষয়েও কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য আসেনি।

কৌশলগত হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করলেও আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায় তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে পরোক্ষ কূটনৈতিক বার্তা আদান-প্রদান এখনও অব্যাহত রয়েছে। গতকাল সোমবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানান, আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীদের প্রাতিষ্ঠানিক মাধ্যমে দুই দেশ নিয়মিত গুরুত্বপূর্ণ বার্তা আদান-প্রদান করে যাচ্ছে। কাতার সরকারের মধ্যস্থতায় এই গোপন কূটনৈতিক যোগাযোগ সহজতর ও বেগবান করতে ইরানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি সম্প্রতি কাতার সফর করেছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান শুরু হয়েছিল। তার পাল্টা জবাব হিসেবে ইসরায়েল এবং পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলজুড়ে ছড়িয়ে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে কয়েক দফায় ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় ইরানি বাহিনী। পরবর্তীতে দীর্ঘ উত্তেজনার পর গত এপ্রিল মাসে দুই পক্ষের মধ্যে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

পরবর্তীতে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক নৌযান চলাচলের অবাধ স্বাধীনতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত ১৮ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে। তবে প্রণালির সার্বিক নিরাপত্তা তদারকি ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে গভীর মতবিরোধ বহাল থাকার কারণে শেষ পর্যন্ত সেই সমঝোতার বাস্তবায়ন থমকে যায়।

জনপ্রিয়

বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী

ইরানের বন্দর লেঙ্গেহতে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা, দফায় দফায় বিকট বিস্ফোরণ

সর্বশেষ হালনাগাদ : ১১:২৫:০৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

ইরানের দক্ষিণ উপকূলে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কেশম দ্বীপের পর এবার দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় সামরিক ও বাণিজ্যিক বন্দর শহর ‘লেঙ্গেহ’-তে আজ মঙ্গলবার ভোরে দফায় দফায় বিকট বিস্ফোরণের বিকট শব্দ শোনা গেছে। মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কৌশলগত এসব লক্ষ্যবস্তুতে সরাসরি বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। তবে এই আকস্মিক বিমান হামলায় বিস্ফোরণের মূল উৎস, প্রাণহানি কিংবা বস্তুগত ক্ষয়ক্ষতির সঠিক বিবরণী তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

আজ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ভোরে ইরানের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো কেশম দ্বীপ এবং বন্দর লেঙ্গেহ এলাকায় পরপর বেশ কয়েকটি বিকট বিস্ফোরণের খবর প্রকাশ করে। পরবর্তীতে মার্কিন প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বরাতে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এই সংক্রান্ত চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট প্রকাশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে তুরস্কের আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা আনাদোলু।

এমন এক জটিল মুহূর্তে মার্কিন হামলার এই চাঞ্চল্যকর খবর প্রকাশ্যে এল, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে নতুন করে বড় ধরনের দীর্ঘমেয়াদী সামরিক সংঘাত বা যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনাকে রাজনৈতিকভাবে কিছুটা খাটো করে দেখার বা দেখানোর চেষ্টা করছেন। উল্লেখ্য, আজ মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বহুল আলোচিত মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

গতকাল স্থানীয় সময় সোমবার (২ নভেম্বর) নির্বাচনী প্রচারের ফাঁকে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প দাবি করেন, “ইরানের সঙ্গে আমাদের যুদ্ধ শেষ হয়েছিল এবং সেই যুদ্ধে আমরা সম্পূর্ণ জিতেছি।” তিনি কিছুটা ব্যাখ্যা দিয়ে আরও যোগ করেন, “এটাকে আদৌ একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ বলা যায় কি না, তা আমার জানা নেই। কারণ, গত কয়েক মাস ধরে আমরা দুই পক্ষ কোনো সরাসরি মুখোমুখি লড়াইয়ে লিপ্ত হইনি।”

তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই ধরনের রাজনৈতিক মন্তব্যের ঠিক বিপরীতে দাঁড়িয়ে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা সাফ জানিয়েছেন, গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই ইরানের উপকূলীয় বিভিন্ন কৌশলগত সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ছোট ছোট পরিসরে ধারাবাহিক বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে মার্কিন সশস্ত্র বাহিনী। প্রতিরক্ষা বিভাগের কয়েকজন পদস্থ কর্মকর্তা এই সামরিক অভিযানগুলোকে মূলত নিজেদের কৌশলগত ‘প্রতিরক্ষামূলক’ পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য ও যুক্তি অনুযায়ী, বিশ্ববাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ নিরাপদে চলাচলের ক্ষেত্রে যেকোনো ধরনের প্রত্যক্ষ হুমকি তৈরি করা অথবা কোনো জলযানে আকস্মিক হামলা চালানোর সামরিক সক্ষমতা অর্জনের সুযোগ থেকে ইরানকে পুরোপুরি বিরত রাখতেই এই আগাম বিমান অভিযানগুলো পরিচালিত হচ্ছে।

এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ‘ইরনা’ জানিয়েছে, কেশম দ্বীপে পরপর অন্তত পাঁচটি বিকট বিস্ফোরণের বিকট শব্দ শোনা গিয়েছে। অন্যদিকে দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ‘ফার্স’ নিশ্চিত করে জানিয়েছে, হরমোজগান প্রদেশের সমুদ্র উপকূলীয় কৌশলগত শহর বন্দর লেঙ্গেহতে সাগরের দিক থেকে পর পর কয়েকটি ভয়াবহ বিস্ফোরণের শব্দ ভেসে আসে।

তবে আজ ভোরের এই আকস্মিক বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট সামরিক কারণ সম্পর্কে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমগুলো তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কিছু প্রকাশ করতে পারেনি। ঘটনাটিতে এখন পর্যন্ত কোনো মানুষ নিহত বা আহত হয়েছেন কি না, কিংবা অবকাঠামোগত কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে—সে বিষয়েও কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য আসেনি।

কৌশলগত হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করলেও আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায় তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে পরোক্ষ কূটনৈতিক বার্তা আদান-প্রদান এখনও অব্যাহত রয়েছে। গতকাল সোমবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানান, আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীদের প্রাতিষ্ঠানিক মাধ্যমে দুই দেশ নিয়মিত গুরুত্বপূর্ণ বার্তা আদান-প্রদান করে যাচ্ছে। কাতার সরকারের মধ্যস্থতায় এই গোপন কূটনৈতিক যোগাযোগ সহজতর ও বেগবান করতে ইরানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি সম্প্রতি কাতার সফর করেছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান শুরু হয়েছিল। তার পাল্টা জবাব হিসেবে ইসরায়েল এবং পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলজুড়ে ছড়িয়ে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে কয়েক দফায় ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় ইরানি বাহিনী। পরবর্তীতে দীর্ঘ উত্তেজনার পর গত এপ্রিল মাসে দুই পক্ষের মধ্যে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

পরবর্তীতে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক নৌযান চলাচলের অবাধ স্বাধীনতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত ১৮ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে। তবে প্রণালির সার্বিক নিরাপত্তা তদারকি ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে গভীর মতবিরোধ বহাল থাকার কারণে শেষ পর্যন্ত সেই সমঝোতার বাস্তবায়ন থমকে যায়।