Dhaka ০১:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

ইরান উত্তেজনায় তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের শঙ্কা: যুক্তরাষ্ট্রে বাধ্যতামূলক সেনা নিয়োগের গুঞ্জন

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ০২:২৯:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
  • ৪ বার দেখা হয়েছে

ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উত্তেজনা দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে একটি সম্ভাব্য ‘তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ’ সৃষ্টির আশঙ্কা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে জোরালো বিতর্ক শুরু হয়েছে। ঠিক এমন এক মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের পূর্বনির্ধারিত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী সমাবেশ হঠাৎ বাতিল হয়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে নানা রাজনৈতিক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এই সংঘাত যদি আরও দীর্ঘায়িত ও বিস্তৃত রূপ নেয়, তবে কি সাধারণ আমেরিকান নাগরিকদেরও বাধ্যতামূলকভাবে সামরিক বাহিনীতে বা যুদ্ধে যোগ দিতে হবে—তা নিয়েও জোর আলোচনা চলছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনিক পর্যায়ে এখন পর্যন্ত নতুন করে কোনো বাধ্যতামূলক সেনা নিয়োগ বা ‘কনস্ক্রিপশন’ চালুর সিদ্ধান্ত কিংবা সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।

সম্প্রতি প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ‘দ্য ইকোনমিক টাইমস’-এ প্রকাশিত একটি বিশেষ বিশ্লেষণমূলক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সপ্তাহান্তে আইওয়া ও কানসাস অঙ্গরাজ্যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যেসকল বিশাল নির্বাচনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল, তা আকস্মিকভাবে বাতিল করা হয়। প্রায় একই সময়ে মিনেসোটায় ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের ‘ওয়ার অন ফ্রড’ শীর্ষক পূর্বনির্ধারিত প্রেস কনফারেন্সটিও স্থগিত করা হয়। এই সভাগুলো বাতিলের পেছনে স্পষ্ট কোনো দাপ্তরিক ব্যাখ্যা দেওয়া না হলেও, উক্ত সময়েই মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে যুদ্ধাবস্থা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধির খবরটি প্রকাশ পায়।

প্রতিবেদনের পর্যবেক্ষণে সতর্ক করে বলা হয়, ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সামরিক সংঘাত যদি দীর্ঘমেয়াদি রূপ লাভ করে, তবে তা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক সামরিক স্বার্থের ওপর অত্যন্ত বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এমনকি মার্কিন সিনেটর ক্রিস মারফি এ বিষয়ে কঠোর বার্তা দিয়ে বলেছেন যে, আঞ্চলিক সংঘাত যদি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তবে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন থাকা বিপুলসংখ্যক মার্কিন সেনা মারাত্মক ঝুঁকির মুখোমুখি হবেন।

সাধারণ নাগরিকদের কি সরাসরি যুদ্ধে ডাকা হতে পারে? যদি কোনো কারণে বড় পরিসরে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রকৃত হুমকি বা সম্ভাবনা তৈরি হয়, তবে মার্কিন সামরিক বাহিনীর বিদ্যমান পেশাদার ও স্বেচ্ছাসেবী সেনাদের পাশাপাশি সাধারণ সাধারণ নাগরিকদেরও সেনাবাহিনীতে যুক্ত করার প্রশাসনিক প্রশ্নটি সামনে চলে আসে। নিয়মিত স্বেচ্ছাসেবী সেনা দিয়ে যুদ্ধ পরিচালনা করা সম্ভব না হলে সরকার বাধ্যতামূলক সেনা নিয়োগের কঠোর আইন প্রণয়ন বা কনস্ক্রিপশন চালুর সিদ্ধান্ত নিতে পারে। অতীতে কুখ্যাত ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্রে এই বাধ্যতামূলক ব্যবস্থা চালু রাখা হয়েছিল।

১৯৬৯ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে লটারিভিত্তিক পদ্ধতির মাধ্যমে সাধারণ নাগরিকদের সামরিক বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করার নিয়ম চালু হয়েছিল। সেই সময়ে ১৮ থেকে ২৬ বছর বয়সী পুরুষ নাগরিকদের জন্মতারিখের ক্রমানুসারে লটারির মাধ্যমে বাছাই করে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হতো। যাদের জন্মতারিখ লটারিতে আগে উঠত, তাদের সেনা দপ্তরে ডাকার সম্ভাবনাও তত দ্রুত তৈরি হতো।

তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে এমন কোনো ব্যবস্থা পুনরায় চালুর নতুন সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়নি। কারণ ১৯৭৩ সাল থেকেই মার্কিন সামরিক বাহিনী সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাসেবী নিয়োগ কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়ে আসছে। তা সত্ত্বেও দেশটির ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সী অধিকাংশ পুরুষ নাগরিক এবং স্থায়ী অভিবাসীদের ‘সিলেক্টিভ সার্ভিস সিস্টেমে’ নাম নথিভুক্ত করা আইনত বাধ্যতামূলক। অবশ্য এই নিবন্ধন কিন্তু অবিলম্বে যুদ্ধক্ষেত্রে যাওয়ার কোনো সরাসরি নির্দেশপত্র নয়; বরং ভবিষ্যতে বড় ধরনের জাতীয় জরুরি প্রয়োজনে বা যুদ্ধের সময় যোগ্য তরুণদের একটি হালনাগাদ তালিকা তৈরি রাখার সরকারি প্রশাসনিক ব্যবস্থা মাত্র।

ইরান যুদ্ধে পদাতিক বা স্থলসেনা পাঠানোর সম্ভাবনা কতখানি? প্রতিবেদনে খ্যাতনামা আন্তর্জাতিক সামরিক কৌশল বিশ্লেষক ক্রিস্টোফার লির তাত্পর্যপূর্ণ মতামত তুলে ধরা হয়েছে। তাঁর ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, দীর্ঘ ভিয়েতনাম যুদ্ধ চলাকালে টানা ৯ বছরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ১৮ লাখ পুরুষ নাগরিককে বাধ্যতামূলকভাবে সামরিক বাহিনীতে যোগ দিতে হয়েছিল, যা তখনকার সময়ে দেশটির সামগ্রিক জনসংখ্যার প্রায় ৭ শতাংশ ছিল।

তবে ইরানের ভৌগোলিক অবস্থান ও সম্ভাব্য যুদ্ধের ধরণ বিবেচনা করে লির অভিমত হলো, সাধারণ আমেরিকান নাগরিকদের বাধ্যতামূলকভাবে সেনা বানিয়ে ইরানে পাঠাতে হওয়ার মতো পরিস্থিতির উদ্ভব হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। তাঁর প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ বলছে, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর যৌথ সামরিক অভিযানই এই যুদ্ধের মূল চালিকাশক্তি বা প্রধান অংশ হবে। ফলে ইরানের ভৌগোলিক ভূখণ্ডে সরাসরি বিপুল স্থলবাহিনী নামানোর আদৌ কোনো যৌক্তিক প্রয়োজন বা বাস্তবতা রয়েছে কি না—তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে।

যুক্তরাজ্যেও সমান্তরাল সামরিক প্রস্তুতির গুঞ্জন প্রকাশিত প্রতিবেদনে কেবল যুক্তরাষ্ট্র নয়, বরং অন্যতম পরাশক্তি যুক্তরাজ্যের সাম্প্রতিক সামরিক তৎপরতার বিষয়টিকেও সামনে আনা হয়েছে। বৃটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য টাইমস’-এর বরাতে বলা হয়, যুক্তরাজ্যের নিজস্ব চারটি পারমাণবিক অস্ত্রবাহী সাবমেরিনের মধ্যে তিনটিকেই একই সময়ে গভীর সমুদ্রে সক্রিয় মোতায়েন রাখা হয়েছে, যা সাম্প্রতিক ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত বিরল এক ঘটনা।

এর পাশাপাশি যুক্তরাজ্যে সেনাবাহিনীর স্পেশাল রিজার্ভ ফোর্সে যোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে পুরুষদের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৫৫ বছর থেকে একলাফে বাড়িয়ে ৬৫ বছর উন্নীত করা হয়েছে। সাবেক ব্রিটিশ সেনাপ্রধান লর্ড ড্যানাটের বিশ্লেষণে বলা হয়, বিশ্বজুড়ে যদি সত্যি কোনো বড় মাত্রার মহাসংঘাত শুরু হয়ে যায়, তবে শুরুতেই নিয়মিত রিজার্ভ সেনাদের মাঠে নামানো হবে। এরপর পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে অন্যান্য প্রাক্তন সৈন্যদের কাজে ফিরিয়ে আনা এবং সর্বেশেষ অবস্থা বুঝে আমজনতার জন্য বাধ্যতামূলক সেনা নিয়োগের বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে।

সার্বিক বিচারে, যুক্তরাষ্ট্র কিংবা যুক্তরাজ্য—কোনো দেশই এই মুহূর্তে সাধারণ জনগণের জন্য বাধ্যতামূলক সেনা যোগদানের মতো কোনো আনুষ্ঠানিক আদেশ বা আইন জারি করেনি। ফলে সম্ভাব্য তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ এবং আমজনতাকে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানোর হিসাব-নিকাশগুলো আপাতত নিছক সম্ভাবনা, আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতি ও সামরিক বিশ্লেষণের স্তরেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।

জনপ্রিয়

পোশাক খাতের শ্রমিক আন্দোলনে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নাশকতার প্রমাণ মিলল

ইরান উত্তেজনায় তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের শঙ্কা: যুক্তরাষ্ট্রে বাধ্যতামূলক সেনা নিয়োগের গুঞ্জন

সর্বশেষ হালনাগাদ : ০২:২৯:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উত্তেজনা দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে একটি সম্ভাব্য ‘তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ’ সৃষ্টির আশঙ্কা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে জোরালো বিতর্ক শুরু হয়েছে। ঠিক এমন এক মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের পূর্বনির্ধারিত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী সমাবেশ হঠাৎ বাতিল হয়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে নানা রাজনৈতিক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এই সংঘাত যদি আরও দীর্ঘায়িত ও বিস্তৃত রূপ নেয়, তবে কি সাধারণ আমেরিকান নাগরিকদেরও বাধ্যতামূলকভাবে সামরিক বাহিনীতে বা যুদ্ধে যোগ দিতে হবে—তা নিয়েও জোর আলোচনা চলছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনিক পর্যায়ে এখন পর্যন্ত নতুন করে কোনো বাধ্যতামূলক সেনা নিয়োগ বা ‘কনস্ক্রিপশন’ চালুর সিদ্ধান্ত কিংবা সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।

সম্প্রতি প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ‘দ্য ইকোনমিক টাইমস’-এ প্রকাশিত একটি বিশেষ বিশ্লেষণমূলক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সপ্তাহান্তে আইওয়া ও কানসাস অঙ্গরাজ্যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যেসকল বিশাল নির্বাচনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল, তা আকস্মিকভাবে বাতিল করা হয়। প্রায় একই সময়ে মিনেসোটায় ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের ‘ওয়ার অন ফ্রড’ শীর্ষক পূর্বনির্ধারিত প্রেস কনফারেন্সটিও স্থগিত করা হয়। এই সভাগুলো বাতিলের পেছনে স্পষ্ট কোনো দাপ্তরিক ব্যাখ্যা দেওয়া না হলেও, উক্ত সময়েই মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে যুদ্ধাবস্থা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধির খবরটি প্রকাশ পায়।

প্রতিবেদনের পর্যবেক্ষণে সতর্ক করে বলা হয়, ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সামরিক সংঘাত যদি দীর্ঘমেয়াদি রূপ লাভ করে, তবে তা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক সামরিক স্বার্থের ওপর অত্যন্ত বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এমনকি মার্কিন সিনেটর ক্রিস মারফি এ বিষয়ে কঠোর বার্তা দিয়ে বলেছেন যে, আঞ্চলিক সংঘাত যদি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তবে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন থাকা বিপুলসংখ্যক মার্কিন সেনা মারাত্মক ঝুঁকির মুখোমুখি হবেন।

সাধারণ নাগরিকদের কি সরাসরি যুদ্ধে ডাকা হতে পারে? যদি কোনো কারণে বড় পরিসরে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রকৃত হুমকি বা সম্ভাবনা তৈরি হয়, তবে মার্কিন সামরিক বাহিনীর বিদ্যমান পেশাদার ও স্বেচ্ছাসেবী সেনাদের পাশাপাশি সাধারণ সাধারণ নাগরিকদেরও সেনাবাহিনীতে যুক্ত করার প্রশাসনিক প্রশ্নটি সামনে চলে আসে। নিয়মিত স্বেচ্ছাসেবী সেনা দিয়ে যুদ্ধ পরিচালনা করা সম্ভব না হলে সরকার বাধ্যতামূলক সেনা নিয়োগের কঠোর আইন প্রণয়ন বা কনস্ক্রিপশন চালুর সিদ্ধান্ত নিতে পারে। অতীতে কুখ্যাত ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্রে এই বাধ্যতামূলক ব্যবস্থা চালু রাখা হয়েছিল।

১৯৬৯ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে লটারিভিত্তিক পদ্ধতির মাধ্যমে সাধারণ নাগরিকদের সামরিক বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করার নিয়ম চালু হয়েছিল। সেই সময়ে ১৮ থেকে ২৬ বছর বয়সী পুরুষ নাগরিকদের জন্মতারিখের ক্রমানুসারে লটারির মাধ্যমে বাছাই করে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হতো। যাদের জন্মতারিখ লটারিতে আগে উঠত, তাদের সেনা দপ্তরে ডাকার সম্ভাবনাও তত দ্রুত তৈরি হতো।

তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে এমন কোনো ব্যবস্থা পুনরায় চালুর নতুন সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়নি। কারণ ১৯৭৩ সাল থেকেই মার্কিন সামরিক বাহিনী সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাসেবী নিয়োগ কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়ে আসছে। তা সত্ত্বেও দেশটির ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সী অধিকাংশ পুরুষ নাগরিক এবং স্থায়ী অভিবাসীদের ‘সিলেক্টিভ সার্ভিস সিস্টেমে’ নাম নথিভুক্ত করা আইনত বাধ্যতামূলক। অবশ্য এই নিবন্ধন কিন্তু অবিলম্বে যুদ্ধক্ষেত্রে যাওয়ার কোনো সরাসরি নির্দেশপত্র নয়; বরং ভবিষ্যতে বড় ধরনের জাতীয় জরুরি প্রয়োজনে বা যুদ্ধের সময় যোগ্য তরুণদের একটি হালনাগাদ তালিকা তৈরি রাখার সরকারি প্রশাসনিক ব্যবস্থা মাত্র।

ইরান যুদ্ধে পদাতিক বা স্থলসেনা পাঠানোর সম্ভাবনা কতখানি? প্রতিবেদনে খ্যাতনামা আন্তর্জাতিক সামরিক কৌশল বিশ্লেষক ক্রিস্টোফার লির তাত্পর্যপূর্ণ মতামত তুলে ধরা হয়েছে। তাঁর ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, দীর্ঘ ভিয়েতনাম যুদ্ধ চলাকালে টানা ৯ বছরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ১৮ লাখ পুরুষ নাগরিককে বাধ্যতামূলকভাবে সামরিক বাহিনীতে যোগ দিতে হয়েছিল, যা তখনকার সময়ে দেশটির সামগ্রিক জনসংখ্যার প্রায় ৭ শতাংশ ছিল।

তবে ইরানের ভৌগোলিক অবস্থান ও সম্ভাব্য যুদ্ধের ধরণ বিবেচনা করে লির অভিমত হলো, সাধারণ আমেরিকান নাগরিকদের বাধ্যতামূলকভাবে সেনা বানিয়ে ইরানে পাঠাতে হওয়ার মতো পরিস্থিতির উদ্ভব হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। তাঁর প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ বলছে, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর যৌথ সামরিক অভিযানই এই যুদ্ধের মূল চালিকাশক্তি বা প্রধান অংশ হবে। ফলে ইরানের ভৌগোলিক ভূখণ্ডে সরাসরি বিপুল স্থলবাহিনী নামানোর আদৌ কোনো যৌক্তিক প্রয়োজন বা বাস্তবতা রয়েছে কি না—তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে।

যুক্তরাজ্যেও সমান্তরাল সামরিক প্রস্তুতির গুঞ্জন প্রকাশিত প্রতিবেদনে কেবল যুক্তরাষ্ট্র নয়, বরং অন্যতম পরাশক্তি যুক্তরাজ্যের সাম্প্রতিক সামরিক তৎপরতার বিষয়টিকেও সামনে আনা হয়েছে। বৃটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য টাইমস’-এর বরাতে বলা হয়, যুক্তরাজ্যের নিজস্ব চারটি পারমাণবিক অস্ত্রবাহী সাবমেরিনের মধ্যে তিনটিকেই একই সময়ে গভীর সমুদ্রে সক্রিয় মোতায়েন রাখা হয়েছে, যা সাম্প্রতিক ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত বিরল এক ঘটনা।

এর পাশাপাশি যুক্তরাজ্যে সেনাবাহিনীর স্পেশাল রিজার্ভ ফোর্সে যোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে পুরুষদের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৫৫ বছর থেকে একলাফে বাড়িয়ে ৬৫ বছর উন্নীত করা হয়েছে। সাবেক ব্রিটিশ সেনাপ্রধান লর্ড ড্যানাটের বিশ্লেষণে বলা হয়, বিশ্বজুড়ে যদি সত্যি কোনো বড় মাত্রার মহাসংঘাত শুরু হয়ে যায়, তবে শুরুতেই নিয়মিত রিজার্ভ সেনাদের মাঠে নামানো হবে। এরপর পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে অন্যান্য প্রাক্তন সৈন্যদের কাজে ফিরিয়ে আনা এবং সর্বেশেষ অবস্থা বুঝে আমজনতার জন্য বাধ্যতামূলক সেনা নিয়োগের বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে।

সার্বিক বিচারে, যুক্তরাষ্ট্র কিংবা যুক্তরাজ্য—কোনো দেশই এই মুহূর্তে সাধারণ জনগণের জন্য বাধ্যতামূলক সেনা যোগদানের মতো কোনো আনুষ্ঠানিক আদেশ বা আইন জারি করেনি। ফলে সম্ভাব্য তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ এবং আমজনতাকে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানোর হিসাব-নিকাশগুলো আপাতত নিছক সম্ভাবনা, আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতি ও সামরিক বিশ্লেষণের স্তরেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।