চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে দেশজুড়ে ঘটে যাওয়া সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলাকালে চারজন পুলিশ সদস্যকে নির্মমভাবে হত্যার অপরাধে চূড়ান্তভাবে দোষী সাব্যস্ত দুই ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে ইরান সরকার। দেশটির মধ্যাঞ্চলীয় ঐতিহাসিক শহর ইসফাহানে সংঘটিত উক্ত পুলিশ কর্মকর্তা হত্যাকাণ্ডের জেরে তাঁদের ফাঁসির কাষ্ঠে ঝোলানো হয়।
ইরানের অন্যতম আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ‘তাসনিম নিউজ এজেন্সি’-তে প্রকাশিত বিস্তারিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এই ফাঁসি কার্যকরের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
ইরানি গণমাধ্যমের তথ্য মতে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই ব্যক্তি হলেন আমিরহোসেইন মালেকি এবং আমিরহোসেইন ইব্রাহিমি। দেশটির সর্বোচ্চ আদালত বা সুপ্রিম কোর্ট বিচারিক আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় বহাল রাখার পর প্রয়োজনীয় সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বিচার বিভাগ এই দণ্ড কার্যকর করে।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে ঘটনার প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে বলা হয়, গত ৮ জানুয়ারি একদল ক্ষুব্ধ বিক্ষোভকারীর সঙ্গে সংগঠিত হয়ে ওই দুই ব্যক্তি সরাসরি হামলায় অংশ নিয়েছিলেন। হামলা চালানোর সময় তাঁদের হাতে বিভিন্ন ধরনের মারাত্মক আগ্নেয়াস্ত্র, দাহ্য পদার্থ এবং দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ছিল। তাঁরা প্রকাশ্যে সাধারণ পথচারী ও দায়িত্বরত নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের ওপর সহিংস আক্রমণ চালান।
তাসনিমের প্রতিবেদনে আরও যোগ করা হয় যে, সেই সহিংস ও অতর্কিত হামলায় তৎকালীন সময়ে দায়িত্বে থাকা চারজন নিরস্ত্র পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। এ ছাড়া হামলাকারীরা সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগ ঘটায়।
পরবর্তীতে মারাত্মক এসব রাষ্ট্রবিরোধী ও সহিংস অপরাধে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত থাকার জোরালো প্রমাণ পাওয়ায় আদালত আমিরহোসেইন মালেকি ও আমিরহোসেইন ইব্রাহিমিকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করেন। সুপ্রিম কোর্ট তাঁদের পুনর্বিবেচনার আবেদন খারিজ করে দণ্ড বহাল রাখলে শেষ পর্যন্ত ফাঁসির মাধ্যমে সেই সাজা বাস্তবায়ন করা হয়।
























