যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলায় চিত্রা নদীর ওপর একটি স্থায়ী সেতুর অভাবে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন তিন গ্রামের অন্তত দুই হাজার বাসিন্দা ও শতাধিক শিক্ষার্থী। উপজেলার বন্দবিলা ইউনিয়নের বন্দবিলা গ্রামের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী বড় খুদড়া, ছোট খুদড়া এবং প্রেমচারা গ্রামকে পৃথক করে রেখেছে চিত্রা নদী। নদীটি পারাপারের জন্য গ্রামবাসী, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও ইউনিয়ন পরিষদের যৌথ আর্থিক সহযোগিতায় নির্মিত ৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি কাঠের ও বাঁশের সাঁকোই এখন এলাকাবাসীর একমাত্র ভরসা।
নদী পার হয়ে বন্দবিলা বিজয় চন্দ্র রায় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়তে আসা শতাধিক শিক্ষার্থী প্রতিদিন চরম ঝুঁকি নিয়ে এই সাঁকো অতিক্রম করছে। শুষ্ক মৌসুমে কোনোমতে চলাচল করা গেলেও বর্ষাকালে নদীর পানি বৃদ্ধি এবং সাম্প্রতিক নদী খননের পর উঁচু হওয়া পার কর্দমাক্ত হয়ে পড়ায় সাঁকোটি পারাপারের একেবারেই অনুপযোগী হয়ে পড়ে। বিকল্প হিসেবে সাঁকো ব্যবহার না করলে শিক্ষার্থীদের প্রায় সাত কিলোমিটার এবং স্থানীয় কৃষকদের খাজুরা ও পুলেরহাট বাজারে কৃষিপণ্য পৌঁছাতে প্রায় দশ কিলোমিটার পথ ঘুরে যাতায়াত করতে হয়। এতে যাতায়াত খরচ বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রতিনিয়ত চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ।
বাঁশের সাঁকোটি দীর্ঘ হওয়ায় এটি রক্ষণাবেক্ষণ করা একদিকে যেমন ব্যয়সাধ্য, অন্যদিকে নিরাপত্তার ঝুঁকিও থেকে যায়। বন্দবিলা বিজয় চন্দ্র রায় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পরিতোষ কুমার মন্ডল জানান, প্রতি বছর বিদ্যালয় তহবিল থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ খরচ করে সাঁকোটি মেরামত করতে হয়, যা শিক্ষার বাজেটে চাপ সৃষ্টি করে। বর্ষা মৌসুমে ঝুঁকিপূর্ণ যোগাযোগের কারণে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায়। বন্দবিলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সবদুল হোসেন খানও স্বীকার করেন যে, নিজস্ব অর্থায়নে বারবার সাঁকো সংস্কার স্থায়ী কোনো সমাধান আনছে না; বরং একটি পাকা সেতু নির্মিত হলে এলাকার অর্থনীতি ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।
স্থানীয় জনদুর্ভোগের বিষয়টি আমলে নিয়ে ইতোমধ্যে এলাকাটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছে উপজেলা প্রশাসন। বাঘারপাড়া উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ও বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি আশরাফুল আলম জানান, সাঁকোর নড়বড়ে খুঁটিগুলো যে কোনো সময় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে বাঘারপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ভুপালী সরকার জানিয়েছেন, ওই স্থানে কমপক্ষে ৫০ মিটার দীর্ঘ একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা জরুরি। জনগণের দুর্ভোগ নিরসনে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সেতু নির্মাণের বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।


























