জিম্বাবুয়ের গ্রামীণ নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে চালু হওয়া বৈদ্যুতিক তিন চাকার যান প্রকল্প এখন নানা সংকটে পড়েছে। উচ্চ নিবন্ধন ফি, লাইসেন্সের বাধ্যবাধকতা এবং পুলিশের কঠোর অভিযানের কারণে অনেক নারী তাঁদের একমাত্র আয়ের উৎস হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছেন।
দেশটির পূর্বাঞ্চলের এক নারী চালক জানান, যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের সময় ট্রাফিক পুলিশ তাঁকে থামিয়ে যানবাহনের নিবন্ধন ও চালকের লাইসেন্স দেখতে চায়। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় তাঁকে তাৎক্ষণিক জরিমানা করা হয়।
গ্রামীণ এলাকায় চলাচলের জন্য ব্যবহৃত এই বৈদ্যুতিক যানগুলো মূলত নারীদের স্বনির্ভর করার উদ্দেশ্যে বিতরণ করা হয়েছিল। কম গতির এসব যান কৃষিপণ্য, নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী এবং জরুরি রোগী পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
অনেক নারী জানান, এই যান পরিচালনা করে তাঁরা পরিবারের প্রধান উপার্জনকারী হয়ে উঠেছিলেন। মাসে উল্লেখযোগ্য আয় করে সন্তানদের লেখাপড়া, খাবার ও অন্যান্য ব্যয় নির্বাহ করতেন। কিন্তু পুলিশের অভিযান শুরুর পর তাঁদের আয় ব্যাপকভাবে কমে গেছে।
স্থানীয় উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় পরিচালিত এই প্রকল্পে অংশ নেওয়া নারীদের অভিযোগ, বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী লাইসেন্স, নিবন্ধন, বীমা ও অন্যান্য অনুমোদনের জন্য যে পরিমাণ অর্থ প্রয়োজন, তা তাঁদের সামর্থ্যের বাইরে।
তাঁদের দাবি, কম গতির পরিবেশবান্ধব এই যানকে সাধারণ মোটরসাইকেলের সঙ্গে একই নিয়মে ফেলা হয়েছে, যা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ফলে গ্রামীণ নারীরা অযৌক্তিক প্রশাসনিক জটিলতার মুখে পড়ছেন।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, বিষয়টি নিয়ে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে একাধিকবার আবেদন করা হয়েছে। গ্রামীণ সড়কে চলাচলকারী এসব যানবাহনের জন্য বিশেষ বিধান এবং ফি কমানোর প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। তবে এখনো কার্যকর কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থার প্রসারের এই সময়ে পুরোনো আইন ও বিধিমালা পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন। বিশেষ করে ক্ষুদ্র কৃষক ও গ্রামীণ নারীদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সহজ করতে বাস্তবসম্মত নীতিমালা জরুরি।
এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত নারীরা দ্রুত আইন সংশোধন এবং ফি কমানোর দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের ভাষ্য, এই আয়ের ওপরই তাঁদের পরিবার নির্ভরশীল। বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে অনেকের পক্ষে জীবিকা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।
















