দীর্ঘদিন ধরে চলমান বিআরটি প্রকল্প দেশের অবকাঠামো পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে বড় ধরনের ব্যর্থতার প্রতীক হয়ে উঠেছে। যানজট নিরসনের লক্ষ্য নিয়ে শুরু হওয়া এই প্রকল্প ১৪ বছর পেরিয়েও শেষ হয়নি, উল্টো নাগরিক দুর্ভোগ ও ব্যয় বেড়েছে। ফলে প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ নিয়ে সরকারকে দ্রুত এবং বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
ঢাকার বিমানবন্দর থেকে গাজীপুর পর্যন্ত বিশেষ বাস চলাচলের জন্য ২০১২ সালে প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী কয়েক বছরের মধ্যেই এটি চালুর কথা থাকলেও বারবার সময় ও ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। সর্বশেষ প্রকল্পটি চতুর্থবারের মতো সংশোধনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকল্পটির মূল সমস্যা নকশাগত ত্রুটি এবং যথাযথ সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের অভাব। ইতিমধ্যে নির্মিত অনেক অবকাঠামো ব্যবহারের সুযোগ না থাকায় সেগুলো অব্যবহৃত অবস্থায় নষ্ট হচ্ছে।
সাম্প্রতিক এক মূল্যায়ন প্রতিবেদনে প্রকল্পটি পুরোপুরি বাতিল করে বিদ্যমান অবকাঠামোকে উন্নত মহাসড়ক হিসেবে ব্যবহারের সুপারিশ করা হয়েছে। তবে অন্য একটি মত হলো, অল্প কিছু কাজ বাকি থাকায় প্রকল্পটি সম্পূর্ণ বাতিল না করে বিকল্প উপায়ে চালুর সম্ভাবনাও বিবেচনা করা যেতে পারে।
তবে উভয় ক্ষেত্রেই বড় ব্যয়ের বিষয়টি সামনে এসেছে। প্রকল্প বাতিল করতে যেমন বিপুল অর্থ প্রয়োজন হবে, তেমনি চালু রাখতে নতুন করে যানবাহন ক্রয়, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে আরও হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, অতীতের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় প্রকল্পটির কার্যকারিতা, অর্থনৈতিক টেকসইতা এবং জনস্বার্থের বিষয়গুলো গভীরভাবে মূল্যায়ন করা জরুরি। নাগরিক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে সরকারকে সাহসী ও যৌক্তিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
একই সঙ্গে প্রকল্পটির ব্যর্থতার জন্য দায়ী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবিও উঠেছে। পরিকল্পনা, নকশা, বাস্তবায়ন ও তদারকির সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব নির্ধারণ না হলে ভবিষ্যতেও একই ধরনের ব্যর্থ প্রকল্পের পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা থেকে যাবে।















