আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ৪ অক্টোবর ২০২৫
ভারত তার দীর্ঘদিনের আলোচিত থিয়েটার কমান্ড পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দিকে দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীকে একটি একীভূত কাঠামোর অধীনে আনা—যা সাম্প্রতিক দশকগুলোর মধ্যে অন্যতম বড় প্রতিরক্ষা সংস্কার হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রথম ২০১৯ সালের স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে এই পরিকল্পনার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।
কেন থিয়েটার কমান্ড এখন জরুরি? ২০১৯ সালের বালাকোট এয়ার স্ট্রাইক ভারতের সেনা শাখাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি স্পষ্ট করে দেয়। বিমানবাহিনী সফলভাবে অভিযান চালালেও সেনা ও নৌবাহিনী আলাদাভাবে মোতায়েন হয়, যা যৌথ পরিকল্পনার সীমাবদ্ধতা উন্মোচন করে। এই অভিজ্ঞতার পর থেকেই একীভূত কাঠামোর দাবি জোরালো হয়।
চলমান প্রস্তুতি ভারত বর্তমানে থিয়েটার কমান্ডের পথে যেতে একাধিক পদক্ষেপ নিচ্ছে:
- সরঞ্জামের মানকরণ ও সাধারণ সাপ্লাই চেইন গঠন
- যৌথ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি সম্প্রসারণ
- সেনা শাখাগুলোর মধ্যে ক্রস-পোস্টিং
- ত্রি-সার্ভিস কমিউনিকেশন নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ
বর্তমানে সেনাবাহিনী ও বিমানবাহিনীর ৭টি করে কমান্ড, নৌবাহিনীর ৩টি কমান্ড এবং দুটি বিদ্যমান ত্রি-সার্ভিস কমান্ড (আন্দামান-নিকোবর ও স্ট্র্যাটেজিক ফোর্সেস কমান্ড) রয়েছে।
ভেতরের ভিন্নমত যদিও প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেছেন যে ধীরে ধীরে ঐক্যমত তৈরি হচ্ছে, তবে কিছু মতপার্থক্য রয়ে গেছে।
বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল এ. পি. সিং সতর্ক করে বলেছেন, অতিদ্রুত থিয়েটারাইজেশন ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তিনি দিল্লিতে একটি যৌথ পরিকল্পনা ও সমন্বয় কেন্দ্র গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়েছেন।
অপরদিকে, সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী ও নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল দিনেশ কুমার ত্রিপাঠি মনে করেন, থিয়েটারাইজেশন অনিবার্য।

অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা উল্লেখ করেছেন, চীন দুই বছরেরও কম সময়ে থিয়েটার কমান্ড চালু করেছে, অথচ ভারত দুই দশকের বেশি সময় ধরে বিতর্কে আটকে আছে।
⦁ Western Theatre Command (জয়পুর): পাকিস্তান সীমান্তের জন্য।
⦁ Northern Theatre Command (লখনৌ): চীন ও উত্তর সীমান্তের জন্য।
⦁ Maritime Theatre Command (তিরুবনন্তপুরম): ভারত মহাসাগর ও সামুদ্রিক নিরাপত্তার জন্য।
একীভূতকরণের পদক্ষেপ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন Department of Military Affairs ইতিমধ্যে ১৫০টির বেশি পদক্ষেপ চিহ্নিত করেছে:
- SOP সমন্বয়
- মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র একীভূতকরণ
- অস্ত্র ও প্ল্যাটফর্ম স্ট্যান্ডার্ডাইজেশন (Apache হেলিকপ্টার, ALH ধ্রুব, AK-203 রাইফেল)
বিশ্লেষণ ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ভারতের জন্য সময়ক্ষেপণের সুযোগ নেই। অতীতে সমন্বয়হীনতার কারণে সামরিক অভিযানগুলো দুর্বল হয়েছে, আর ভবিষ্যতে একই ভুল মারাত্মক হতে পারে।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস. কে. শর্মা বলেন: “ভারতের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ এখন দ্বিমুখী—একদিকে পাকিস্তান, অন্যদিকে চীন। এ অবস্থায় বিচ্ছিন্ন কমান্ড কাঠামো বজায় রাখা আত্মঘাতী।”
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ভারত এই সংস্কারের মাধ্যমে কেবল অভ্যন্তরীণ সমন্বয় বাড়াচ্ছে না, বরং চীনের থিয়েটার মডেলের দিকে তাকিয়ে দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে তারা সতর্ক করে দিচ্ছেন যে, মার্কিন মডেল সরাসরি নকল করা উচিত হবে না, বরং ভারতের ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা অনুযায়ী অভিযোজিত কাঠামো তৈরি করতে হবে।
















