সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানকে হোয়াইট হাউসে অভ্যর্থনা জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ক আরও জোরদারের বার্তা দিয়েছেন। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় লাল গালিচা, ব্যান্ড প্রদর্শনী, অশ্বারোহীদের শোভাযাত্রা ও ফ্লাই-পাস্ট—সব মিলিয়ে ছিল রাজকীয় আয়োজন।
ওভাল অফিসে যৌথ আলোচনার সময় ব্যবসা, শান্তি, প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ছিল প্রধান আলোচ্য বিষয়। বৈঠকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা সামনে আসে, যার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র–সৌদি সম্পর্ক আরও গভীর করার ইঙ্গিত মিলেছে।
নিচে মূল পাঁচটি দিক তুলে ধরা হলো—
১. ইসরায়েল–সৌদি সম্পর্ক নিয়ে ‘ইতিবাচক আলোচনা’
দুজনই স্বীকার করেছেন যে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে, যদিও কোনো সময়সূচি জানাননি। সৌদি ক্রাউন প্রিন্স আবারও স্পষ্ট করেন যে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সুস্পষ্ট পথ ছাড়া ইসরায়েলের সঙ্গে চুক্তি হবে না। ট্রাম্প বলেন, “আমরা এক রাষ্ট্র–দুই রাষ্ট্র—সব বিষয়েই আলোচনা করেছি।”
২. সৌদিকে ‘মেজর নন–ন্যাটো অ্যালাই’ ঘোষণা
হোয়াইট হাউসের আনুষ্ঠানিক ডিনারে ট্রাম্প ঘোষণা করেন যে যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবকে ‘প্রধান নন–ন্যাটো মিত্র’ হিসেবে স্বীকৃতি দিচ্ছে। এতে রিয়াদ উন্নত মার্কিন সামরিক প্রযুক্তি কম জটিলতায় পাবে। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তিও স্বাক্ষর হয়েছে, যার বিশদ প্রকাশ না হলেও বলা হয়েছে এটি মধ্যপ্রাচ্যে প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াবে। ট্রাম্প নিশ্চিত করেছেন—সৌদি আরব এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান পাবে, এবং সেগুলো কম সক্ষমতার হবে না।
৩. ইরান নিয়ে কূটনৈতিক বার্তা
ট্রাম্প আবারও দাবি করেন যে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতায় আগ্রহী। সৌদি ক্রাউন প্রিন্সও জানান, ওয়াশিংটন–তেহরান সমঝোতা হলে রিয়াদ সেটিকে সমর্থন করবে। তিনি বলেন, “এই অঞ্চলের ও বিশ্বের স্থিতিশীলতার জন্য ভালো চুক্তি হওয়া প্রয়োজন।”
৪. যুক্তরাষ্ট্রে সৌদি বিনিয়োগ বাড়ছে—সম্ভাব্য ১ ট্রিলিয়ন ডলার
বৈঠকের শুরুতেই ট্রাম্প জানান, সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রে ৬০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে সম্মত হয়েছে—আর তিনি আশা করছেন তা এক ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। সৌদি ক্রাউন প্রিন্স বলেন, প্রযুক্তি, এআই, খনিজ সম্পদ ও অন্যান্য খাতে এসব বিনিয়োগ যুক্তরাষ্ট্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে।
৫. প্রশংসা ও আলোচনায় উত্তেজনা
বৈঠকের পুরো সময়ই ট্রাম্প ও এমবিএস প্রকাশ্যে একে অপরের প্রশংসা করেন। ট্রাম্প বলেন, “তিনি অসাধারণ ও মেধাবী একজন নেতা।”
এক পর্যায়ে ট্রাম্প প্রিন্সের হাত ধরে বাইডেনকে ব্যঙ্গ করেন, যিনি ২০২১ সালে রিয়াদ সফরে এমবিএসকে শুধু ‘ফিস্ট বাম্প’ দিয়েছিলেন।
এক সাংবাদিক এমবিএসকে কঠিন প্রশ্ন করলে ট্রাম্প তাকে ‘অসম্মানজনক’ মন্তব্য করেন এবং পরে এপস্টিন–সম্পর্কিত ফাইল প্রকাশের বিষয়ে প্রশ্ন করায় ওই সাংবাদিককে “ভয়ংকর মানুষ” বলেন। ঠিক একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস এপস্টিন ফাইল প্রকাশে বাধ্য করার বিল পাস করে।















