ফিলিপাইনে বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পে জাল অবকাঠামো ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে তদন্তের জেরে প্রেসিডেন্ট ফের্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়রের সরকারের দুই মন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন। এতে দেশটির সরকারজুড়ে চলমান দুর্নীতি সংকট আরও গভীর আকার ধারণ করেছে।
মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নির্বাহী সচিব লুকাস বেরসামিন এবং বাজেট ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব আমেনা পাঙ্গানদামান তাদের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। ফিলিপাইনস ইনকোয়ারার জানিয়েছে, বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পে অসংগতি ও অনিয়মের অভিযোগ তাদের নিজ নিজ দপ্তরের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় তারা দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন—যেন সরকার সঠিকভাবে বিষয়টি মোকাবিলা করতে পারে।
দুর্নীতি তদন্তে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে এই দুই মন্ত্রী সরাসরি অভিযুক্ত হলেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষক অ্যারিস আরুগাই বলেন, জুলাইয়ে দুর্নীতি কেলেঙ্কারি প্রকাশ পাওয়ার পর এটি এখন পর্যন্ত সরকারের ওপর সবচেয়ে বড় চাপ তৈরি করেছে।
তিনি আরও বলেন, প্রেসিডেন্ট মার্কোস এখনো পর্যন্ত নিজেকে এই বিতর্কের বাইরে রাখার চেষ্টা করছেন। কিন্তু নতুন তথ্য সামনে এলে পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তন হতে পারে। যদিও সংসদে মার্কোসের এখনও শক্ত অবস্থান রয়েছে, কারণ অনেক এমপি বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট সারা দুতের্তের চেয়ে মার্কোসকে বেশি পছন্দ করেন।
এর মধ্যেই বিদেশে অবস্থানরত এক রাজনীতিক, জালদি কো, দাবি করেছেন যে প্রেসিডেন্ট মার্কোস তাকে ১.৭ বিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত বাজেট বরাদ্দ দিতে বলেছিলেন সন্দেহজনক জনপদ নির্মাণ প্রকল্পে। যদিও এ অভিযোগ যাচাই করা হয়নি।
কোসহ কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এই সপ্তাহে মামলা দায়ের হয়েছে, যা মাসব্যাপী তদন্তের ফল।
বন্যা প্রতিরোধ প্রকল্পে বড় অঙ্কের সরকারি অর্থ বেসরকারি ঠিকাদারদের মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে মার্কোস এ বছরের শুরুর দিকে কংগ্রেসে দেওয়া একটি বক্তব্যে জানান। নিম্নমানের নির্মাণ কিংবা কোথাও কোথাও একেবারেই কাজ না করার অভিযোগও উঠে এসেছে।
প্রায় প্রতি বছর টাইফুন ও প্রবল বর্ষণে ফিলিপাইনে ভয়াবহ বন্যা হয়। এ পরিস্থিতিতে দুর্নীতির এ ধরনের কেলেঙ্কারি দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ তৈরি করেছে।
দুর্নীতিবিরোধী বিক্ষোভে ফিলিপাইনের রাস্তায় লাখো মানুষ নেমে এসেছে। গত রোববার ম্যানিলায় আয়োজিত বিক্ষোভে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ অংশ নেয় বলে স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে।
















