দলীয় আধিপত্য ও ভয়ের সংস্কৃতিতে পিষ্ট উচ্চশিক্ষা; মেধা বিকাশে বড় বাধা ক্যাম্পাস রাজনীতি
বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার পরিবেশ আজ এক অস্বস্তিকর বাস্তবতার মুখোমুখি। যেখানে বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ার কথা ছিল নতুন জ্ঞান সৃষ্টি ও জাতীয় উন্নয়নের চালিকাশক্তি, সেখানে দলীয় নিয়ন্ত্রণ, গোষ্ঠীগত প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও ভয়ের সংস্কৃতি ক্যাম্পাসগুলোকে গ্রাস করে ফেলেছে। চীন, জাপান বা ইউরোপ-আমেরিকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যখন গবেষণা ও উদ্ভাবনে বিশ্বকে নেতৃত্ব দিচ্ছে, আমাদের শিক্ষার্থীরা তখন ক্যাম্পাস রাজনীতির বেড়াজালে পড়ে তাদের মূল্যবান সময় ও সম্ভাবনা হারাচ্ছে।
একটি দেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করে তার উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মানের ওপর। উন্নত বিশ্বে শিক্ষার্থীরা যখন স্টার্টআপ, রোবোটিকস ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কাজ করছে, আমাদের দেশের মেধাবী তরুণদের তখন মেধার চেয়ে রাজনৈতিক পরিচয়ে টিকে থাকতে হচ্ছে। একাডেমিক কার্যক্রমের এই স্থবিরতা কেবল বিশ্ববিদ্যালয়ের সংকট নয়, বরং এটি একটি জাতীয় সংকট। আবাসিক হলগুলোতে ভয়ের রাজত্ব আর শ্রেণিকক্ষে পেশিশক্তির প্রভাব স্বাধীন চিন্তার পথকে রুদ্ধ করে দিচ্ছে, যা শেষ পর্যন্ত দেশকেও পিছিয়ে দিচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয় কোনো রাজনৈতিক দলের সম্পত্তি হতে পারে না; এটি শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সাধারণ নাগরিকদের সম্পদ। মুক্তচিন্তা ও গঠনমূলক আলোচনা ক্যাম্পাসের প্রাণ হওয়া উচিত, কিন্তু সংগঠিত জবরদস্তি প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করে দেয়। তাই সময় এসেছে বিশ্ববিদ্যালয়কে তার প্রকৃত রূপে ফিরিয়ে আনার। রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করে গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়ানো এবং শিক্ষকদের মেধার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা এখন সময়ের দাবি। বাংলাদেশের তরুণেরা এমন এক ক্যাম্পাসের অধিকার রাখে, যেখানে তারা নির্ভয়ে স্বপ্ন দেখতে পারবে এবং আগামীর নেতৃত্ব হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলবে।















