ফ্রান্সে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ঐতিহাসিক অবতরণ অভিযানের ৮২তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ইউরোপের অভিবাসন নীতির তীব্র সমালোচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। তিনি অভিযোগ করেন, ইউরোপের বিভিন্ন দেশে অভিবাসীদের আগমন কার্যত একটি ‘আক্রমণে’ পরিণত হয়েছে এবং এ বিষয়ে ইউরোপীয় নেতৃত্ব যথাযথ পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হচ্ছে।
নরম্যান্ডিতে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, অতীতে যেসব সৈন্য ইউরোপের স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করেছিলেন, তারা স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার করেছিলেন। কিন্তু বর্তমানে ইউরোপ নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, যা স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
তিনি স্পেন, ইতালি, গ্রিস ও বুলগেরিয়ার উপকূলে অভিবাসীদের আগমনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রশ্ন তোলেন, ইউরোপের রাজধানীগুলো কবে এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেবে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অভিবাসন ইউরোপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। কঠোর অভিবাসন নীতির পক্ষে অবস্থান নেওয়া রাজনৈতিক দলগুলোর জনপ্রিয়তাও বিভিন্ন দেশে বৃদ্ধি পেয়েছে।
মার্কিন প্রশাসনও অভিবাসন নিয়ন্ত্রণকে তাদের অভ্যন্তরীণ নীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করছে। সীমান্ত নিরাপত্তা ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর কার্যক্রম জোরদারে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্টও অভিবাসন ইস্যুতে ইউরোপীয় দেশগুলোর সমালোচনা করেছিলেন। তবে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সরকার এসব মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বাইরের হস্তক্ষেপের সমালোচনা করে।
নরম্যান্ডির অনুষ্ঠানে প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, স্বাধীনতা কখনো বিনামূল্যে আসে না এবং তা রক্ষা করার দায়িত্ব বর্তমান প্রজন্মের নেতাদের ওপরই বর্তায়। তাঁর মতে, স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা রক্ষায় অবহেলা করা হলে অতীতের ত্যাগ অর্থহীন হয়ে পড়বে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নরম্যান্ডি অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও কানাডার হাজারো সেনা অংশ নিয়েছিল। ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ সামুদ্রিক সামরিক অভিযান হিসেবে এটি পরিচিত।
অন্যদিকে, ইউরোপে সমুদ্রপথে অভিবাসীদের আগমন গত এক দশকে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বিভিন্ন ইউরোপীয় দেশে অভিবাসীদের প্রবেশ অব্যাহত থাকলেও কিছু রুটে আগমনের সংখ্যা আগের তুলনায় কমেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, অভিবাসন প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মধ্যে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হতে পারে, বিশেষ করে নিরাপত্তা, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ এবং মানবিক দায়িত্বের মতো বিষয়গুলোকে ঘিরে।
















