ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হলেও চীন তুলনামূলকভাবে এই ধাক্কা মোকাবিলায় ভালো অবস্থানে রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তবে তাদের মতে, চীনের জ্বালানি নিরাপত্তা মূলত তেল বা গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল নয়, বরং নির্ভর করে কয়লার ওপর এবং দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুতায়নের ওপর।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চীনের কাছে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুদ থাকলেও এর প্রকৃত শক্তি তার বিশাল কয়লা উৎপাদন ও ব্যবহারের সক্ষমতায়। বিশ্বের মোট কয়লার অর্ধেকের বেশি ব্যবহার করে দেশটি এবং এর বেশিরভাগই অভ্যন্তরীণভাবে উৎপাদিত হয়, যা চীনকে জ্বালানি নিরাপত্তায় বড় সুবিধা দেয়।
বর্তমান সংকটে প্রয়োজনে চীন সহজেই কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে পারে। এতে স্বল্পমেয়াদে জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল রাখা সম্ভব। তবে এই প্রবণতা দেশটির দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশবান্ধব জ্বালানি নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
চীন আগামী বছরগুলোতে কয়লার ব্যবহার কমিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জ্বালানি সংকটের কারণে আবারও কয়লার ব্যবহার বেড়েছে। বিশেষ করে ২০২১ সালের বিদ্যুৎ সংকটের পর সরকার জ্বালানি নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাড়ানোর দিকে ঝুঁকেছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালে চীন নতুন করে বিপুল পরিমাণ কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা যুক্ত করেছে। তবে একই সময়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহারও বেড়েছে, যা ধীরে ধীরে জ্বালানি কাঠামোতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, চীনের জ্বালানি খাত এখন এক ধরনের দ্বৈত বাস্তবতার মধ্যে রয়েছে। একদিকে কয়লার ওপর নির্ভরতা বজায় রেখে তাৎক্ষণিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা হচ্ছে, অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও বিদ্যুতায়নের দিকে অগ্রসর হওয়া হচ্ছে।
তাদের মতে, ভবিষ্যতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চীন বিদ্যুতায়নকে কৌশলগত লক্ষ্য হিসেবে নিয়েছে। সৌরশক্তিসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনে দেশটি ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভবিষ্যতে তেলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিদ্যুতভিত্তিক অর্থনীতিতে রূপান্তরই চীনের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ পথ। ফলে বৈশ্বিক রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও দেশটি জ্বালানি ঝুঁকি কমাতে সক্ষম হবে।
















