চলমান উত্তেজনা কমাতে চীনের মধ্যস্থতায় আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছে কাবুল।
চীনের উরুমকি শহরে কয়েকদিন ধরে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে এই আলোচনা চলছে। সাম্প্রতিক সংঘাতে উভয় পক্ষেই বহু হতাহতের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পাকিস্তান অভিযোগ করে আসছে, আফগানিস্তান তাদের ভূখণ্ডে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে আশ্রয় দিচ্ছে, যারা পাকিস্তানে হামলা চালায়। তবে কাবুল এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলছে, এটি পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সমস্যা।
ফেব্রুয়ারিতে পাকিস্তানের বিমান হামলার জবাবে আফগানিস্তান পাল্টা সীমান্ত হামলা চালালে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এরপর পাকিস্তান কার্যত যুদ্ধ পরিস্থিতি ঘোষণা করে এবং পূর্বের যুদ্ধবিরতি ভেঙে যায়।
আফগানিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি চীনের উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে এবং তিনি আশা প্রকাশ করেন, ছোটখাটো মতপার্থক্য আলোচনার পথে বাধা হবে না।
তিনি এই প্রক্রিয়ায় সহায়তার জন্য সৌদি আরব, তুরস্ক, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতকেও ধন্যবাদ জানান।
অন্যদিকে পাকিস্তান সরাসরি আলোচনার বিষয়ে মন্তব্য না করলেও তাদের সেনাপ্রধান শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে জানান, সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আশ্রয় ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে যাওয়া হবে।
জাতিসংঘের তথ্যমতে, এই সংঘাতের কারণে প্রায় ৯৪ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। সীমান্তবর্তী কয়েকটি অঞ্চলে প্রায় এক লাখ মানুষ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে।
২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছিল। সাম্প্রতিক সংঘর্ষকে সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর বলে মনে করা হচ্ছে।
এর আগে মার্চে কাবুলে একটি পুনর্বাসন কেন্দ্রে বিমান হামলায় শতাধিক মানুষ নিহত হওয়ার অভিযোগ তোলে আফগানিস্তান, যা পাকিস্তান অস্বীকার করে।
রমজান মাসের শেষে সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হওয়ায় পরিস্থিতি এখনো অস্থির রয়েছে।
















