ভারতে গত এক যুগের মধ্যে সবচেয়ে শুষ্ক জুন মাস রেকর্ড হওয়ায় কৃষি উৎপাদন নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। দেশটির আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, চলতি বছরের জুন মাসে স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম বৃষ্টিপাত হয়েছে এবং জুলাই মাসেও স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসের শেষ পর্যন্ত গ্রীষ্মকালীন ফসলের আবাদ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২৩ শতাংশ কম হয়েছে। সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে ধান চাষে, যেখানে আবাদ কমেছে প্রায় ২৫ শতাংশ। এছাড়া ডাল, তৈলবীজ, তুলা, আখ ও অন্যান্য মৌসুমি ফসলের আবাদও ধীরগতিতে এগোচ্ছে।
ভারতের বিপুল সংখ্যক কৃষক মৌসুমি বৃষ্টির ওপর নির্ভরশীল। বৃষ্টি দেরিতে শুরু হওয়া এবং পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় অনেক এলাকায় জমি প্রস্তুত ও বীজ বপনের কাজ পিছিয়ে পড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভোজ্যতেল উৎপাদন কমে যেতে পারে এবং আমদানির ওপর নির্ভরতা বাড়তে পারে।
তবে কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বর্ষা মৌসুম চলবে। ফলে আগামী মাসগুলোতে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হলে বিলম্বিত আবাদ অনেকটাই পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব। এছাড়া সরকারি গুদামে পর্যাপ্ত চালের মজুত থাকায় তাৎক্ষণিক খাদ্যসংকটের আশঙ্কা নেই।
এদিকে সম্ভাব্য কম বৃষ্টিপাত ও উষ্ণ সমুদ্রস্রোতের প্রভাব মোকাবিলায় সরকার আগাম প্রস্তুতি নিয়েছে। কম সময়ে উৎপাদনযোগ্য ফসল, কম পানি প্রয়োজন এমন জাতের চাষ এবং পানি সংরক্ষণ কার্যক্রম জোরদারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সরকার কৃষকদের আতঙ্কিত না হয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের আহ্বান জানিয়েছে।
















