ইউরোপে পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে যাত্রা করা একদল আফগান অভিবাসী অভিযোগ করেছেন, তুরস্কের সীমান্তরক্ষীরা তাদের নির্মমভাবে মারধর, পোশাক খুলে নেওয়া এবং তীব্র শীতের মধ্যে সীমান্তে ফেলে রেখে যায়। তাঁদের দাবি, ওই ঘটনার পর অন্তত ২০ জনের মৃত্যু হয় এবং বেঁচে যাওয়া অনেকেই তুষারদাহে হাত-পা হারান।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরুতে প্রায় ৫০ জন আফগান অভিবাসী সীমান্ত অতিক্রমের পর আটক হন। পরে কয়েক দিন একটি স্থানে আটকে রেখে তাঁদের দিয়ে জোরপূর্বক শ্রম করানো হয় এবং অল্প খাবার ও পানি দেওয়া হয়। এরপর লোহার রড দিয়ে মারধর করে, হাত বেঁধে এবং অধিকাংশ পোশাক খুলে তুষারাচ্ছন্ন সীমান্ত এলাকার দিকে ঠেলে দেওয়া হয়।
বেঁচে ফেরা একাধিক অভিবাসী জানান, প্রচণ্ড তুষারপাত, শূন্যের নিচে তাপমাত্রা এবং চিকিৎসার অভাবে তাঁদের অনেকের শরীরে মারাত্মক তুষারদাহ হয়। পরে আফগানিস্তানে ফিরিয়ে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা কয়েকজনের দুই হাত ও দুই পা কেটে ফেলতে বাধ্য হন। সবচেয়ে কম বয়সী আহতদের একজনের বয়স মাত্র ১৩ বছর।
অভিযোগকারীদের দাবি, সীমান্ত অতিক্রমের পর প্রতিবেশী দেশেও দ্রুত চিকিৎসা পাননি। পরে মানবিক সহায়তায় তাঁদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নেওয়া হয় এবং রাজধানীর হাসপাতালে চিকিৎসা শুরু হয়। চিকিৎসকেরা জানান, সময়মতো চিকিৎসা পেলে অনেকের অঙ্গহানি এড়ানো সম্ভব ছিল।
এদিকে তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অভিযোগগুলো অস্বীকার করে বলেছে, দেশটির সীমান্তরক্ষীরা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক আইন মেনেই দায়িত্ব পালন করে এবং আটক অনিয়মিত অভিবাসীদের প্রয়োজনীয় খাদ্য, পানি ও চিকিৎসাসহ সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হয়। তবে মানবাধিকারকর্মীদের দাবি, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ওই সীমান্ত এলাকায় জোরপূর্বক ফেরত পাঠানো ও নির্যাতনের অভিযোগ একাধিকবার উঠেছে।
















