পশ্চিম এশিয়ায় ছয় সপ্তাহের তীব্র সংঘাতের পর পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া সাময়িক যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়েছে ভারত। একই সঙ্গে দেশটি আশা প্রকাশ করেছে, এই উদ্যোগ অঞ্চলটিতে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ খুলে দিতে পারে এবং ভবিষ্যতে ইউক্রেন সংকটেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, চলমান সংঘাত ইতোমধ্যে ব্যাপক মানবিক দুর্ভোগ সৃষ্টি করেছে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্য নেটওয়ার্কে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটিয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী দিয়ে অবাধ নৌ চলাচল ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য স্বাভাবিক থাকার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, উত্তেজনা প্রশমিত করা, সংলাপ এবং কূটনৈতিক প্রচেষ্টাই চলমান সংঘাত দ্রুত সমাধানের একমাত্র কার্যকর পথ। ভারত সবসময় শান্তির পক্ষে এবং যে কোনো উদ্যোগকে সমর্থন করে যা স্থিতিশীলতা ও শান্তি নিশ্চিত করতে সহায়ক।
যদিও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয় পক্ষই এই অগ্রগতির ক্ষেত্রে পাকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা উল্লেখ করেছে, ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে তা স্বীকার করেনি। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির সময় ইরানের পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার অঙ্গীকারকে দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতার সম্ভাব্য সূচনা হিসেবে দেখছে নয়াদিল্লি।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন, আগামী ১০ এপ্রিল থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনার আয়োজন করবে ইসলামাবাদ। এই প্রেক্ষাপটে উপসাগরীয় অঞ্চলে বসবাসরত বিপুল সংখ্যক ভারতীয় নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জ্বালানি পরিবহন স্বাভাবিক রাখা ভারতের প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে উঠে এসেছে।
তবে এই যুদ্ধবিরতির ফলে আন্তর্জাতিক পরিসরে পাকিস্তানের গ্রহণযোগ্যতা বাড়লে তা ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। ভারত দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তানকে সন্ত্রাসবাদের উৎস হিসেবে বিবেচনা করে এবং সন্ত্রাসবিরোধী কার্যকর পদক্ষেপ ছাড়া দ্বিপাক্ষিক সংলাপে আগ্রহ দেখায় না।
এদিকে, চীনেরও আলোচনায় ভূমিকা থাকতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও ভারত নিজে মধ্যস্থতায় অংশ নেয়নি। দেশটি বরাবরই তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতা এড়িয়ে দ্বিপাক্ষিক কূটনীতিকে গুরুত্ব দিয়ে আসছে।
















