বিদেশে মানবপাচারের দায়ে দণ্ডিত এক ব্যক্তি বর্তমানে যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন এবং আশ্রয়ের আবেদন করেছেন বলে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে ভুয়া পরিচয় ব্যবহার, অবৈধভাবে কাজ করা এবং বৈধ অনুমতি ছাড়া গাড়ি চালানোর অভিযোগও উঠেছে। ঘটনাটি দেশটির সীমান্ত নিরাপত্তা ও আশ্রয়প্রার্থী যাচাই প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি কয়েক বছর আগে ইউরোপের একটি দেশে মানবপাচারের দায়ে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড পান। সে সময় তদন্তকারীরা অভিযোগ করেছিলেন, তিনি অবৈধ অভিবাসীদের বিপুল অর্থের বিনিময়ে সমুদ্রপথে যুক্তরাজ্যে পৌঁছে দেওয়ার বড় একটি চক্র পরিচালনা করতেন। সাজা ভোগের পর তাঁকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর কথা থাকলেও পরে তিনি যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করে আশ্রয়ের আবেদন করেন বলে জানা যায়।
অনুসন্ধানে আরও দাবি করা হয়েছে, তিনি বর্তমানে ভিন্ন পরিচয়ে বসবাস করছেন এবং স্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন। যদিও আশ্রয়প্রার্থীদের কাজ করার ক্ষেত্রে কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে। তাঁকে গাড়ি চালাতেও দেখা গেছে, যদিও বৈধ চালনার অনুমতি রয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
আইনশৃঙ্খলা সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিদেশে মানবপাচারের অপরাধে দণ্ডিত আরও অন্তত পনেরো ব্যক্তি ভিন্ন পরিচয়ে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ এখনো অপরাধচক্রের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারেন বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউরোপীয় জোট থেকে যুক্তরাজ্যের বেরিয়ে যাওয়ার পর বিভিন্ন দেশের অপরাধসংক্রান্ত তথ্য আদান-প্রদান আগের তুলনায় কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে বিদেশে দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের অতীত যাচাইয়ে জটিলতা তৈরি হচ্ছে। তবে যুক্তরাজ্য সরকার জানিয়েছে, আশ্রয়প্রার্থীদের পরিচয়, নিরাপত্তা ও অপরাধসংক্রান্ত তথ্য যাচাইয়ের জন্য বাধ্যতামূলক পরীক্ষা চালানো হয় এবং এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতাও অব্যাহত রয়েছে।
















