ইন্দোনেশিয়ায় দায়ের করা গণহত্যার অভিযোগের প্রেক্ষাপটে এক রোহিঙ্গা অধিকারকর্মী মিয়ানমারের সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে মুসলিম বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধভাবে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
রোহিঙ্গা অধিকারকর্মী ইয়াসমিন উল্লাহসহ ১১ জন অভিযোগকারী ইন্দোনেশিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে একটি মামলা দায়ের করেছেন। এতে মিয়ানমারের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইং-এর বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ার আইনে সার্বজনীন বিচারিক ক্ষমতা রয়েছে, যার মাধ্যমে বিশ্বের যেকোনো স্থানে সংঘটিত গুরুতর অপরাধের বিচার করা সম্ভব। এর আগে একই ধরনের নীতির আওতায় আর্জেন্টিনাতেও রোহিঙ্গা ইস্যুতে মামলা করা হয়েছিল।
ইয়াসমিন উল্লাহ বলেন, বিশ্বের বৃহত্তম মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হওয়ায় ইন্দোনেশিয়াকে এই মামলার জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে। তিনি আসিয়ান নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হলে মিয়ানমারের সামরিক শাসনের মূল কারণগুলো মোকাবিলা করতে হবে।
২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের পর থেকে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে রোহিঙ্গাদের ওপর দমন-পীড়নের কারণে লাখ লাখ মানুষ বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে।
সম্প্রতি সামরিকপন্থী আইনপ্রণেতারা মিন অং হ্লাইং-কে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করেছেন, যার ফলে তিনি বেসামরিক রূপে ক্ষমতায় থাকার সুযোগ পাচ্ছেন।
ইয়াসমিন উল্লাহ আশা প্রকাশ করে বলেন, একদিন মিন অং হ্লাইং-কে আদালতে দাঁড় করিয়ে ভুক্তভোগীদের সামনে জবাবদিহির মুখোমুখি করা সম্ভব হবে।
বর্তমানে ইন্দোনেশিয়ায় প্রায় সাত হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী অবস্থান করছে, যাদের অধিকাংশই আচেহ প্রদেশে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে বসবাস করছে।
মামলাটি ইন্দোনেশিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে এবং এটি গুরুতর অপরাধ সংক্রান্ত বিভাগে পাঠানো হবে বলে জানানো হয়েছে।
















