অস্ট্রেলিয়ার দীর্ঘ সাত মাসের চাঞ্চল্যকর অভিযান শেষে দেশটির সবচেয়ে আলোচিত পলাতক ব্যক্তি দেজি ফ্রিম্যান নিহত হলেও তার মৃত্যু ঘিরে এখনো বহু প্রশ্নের উত্তর মিলেনি।
পুলিশ জানায়, ভোরের দিকে এক দূরবর্তী খামারে অবস্থান নেওয়া ফ্রিম্যানকে আত্মসমর্পণের সুযোগ দেওয়া হলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। পরে সংঘর্ষের এক পর্যায়ে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
ফ্রিম্যান, যার প্রকৃত নাম ডেসমন্ড ফিলবি, গত বছর আগস্টে দুই পুলিশ সদস্যকে হত্যার পর পাহাড়ি বনাঞ্চলে পালিয়ে যান। এরপর শুরু হয় অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসের অন্যতম বড় অনুসন্ধান অভিযান।
দীর্ঘ সময় ধরে নিখোঁজ থাকার পর হঠাৎ তাকে জীবিত অবস্থায় খুঁজে পাওয়ার ঘটনা যেমন বিস্ময় তৈরি করেছে, তেমনি তার অবস্থান ও সহায়তা নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠেছে।
পুলিশের ধারণা, এত দীর্ঘ সময় ধরে লুকিয়ে থাকতে তিনি একা ছিলেন না এবং কেউ না কেউ তাকে সহায়তা করেছে। তবে কারা তাকে সহযোগিতা করেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের মতে, ছোট জনপদে এমন ঘটনা অজানা থাকার কথা নয়, তাই কেউ বিষয়টি জানত কি না, সেটিও তদন্তের বিষয় হয়ে উঠেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুর্গম বনাঞ্চলে পালিয়ে থাকায় তাকে খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। শহরের মতো প্রযুক্তিগত নজরদারির সুযোগ না থাকায় পুলিশকে সরাসরি অনুসন্ধান চালাতে হয়েছে।
ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া কিছু আলামত, যেমন একাধিক বসার চেয়ার ও পরিবর্তিত কাঠামো, ইঙ্গিত দেয় যে তিনি একাধিক ব্যক্তির সহায়তা পেয়েছিলেন।
তবে কীভাবে পুলিশ তার অবস্থান সম্পর্কে তথ্য পেয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। এমনকি ঘোষিত পুরস্কারের অর্থও কেউ দাবি করেনি।
বিশ্লেষকদের মতে, ফ্রিম্যানের মতাদর্শ এবং ব্যক্তিত্বের কারণে তিনি আত্মসমর্পণ করবেন না, এমন ধারণা আগেই ছিল।
তার মৃত্যু কিছু মানুষের জন্য স্বস্তি আনলেও অনেক প্রশ্ন এখনও অমীমাংসিত রয়ে গেছে। তদন্ত চলমান থাকলেও কর্তৃপক্ষ ইঙ্গিত দিয়েছে, সব তথ্য হয়তো কখনোই প্রকাশ করা হবে না।
















