জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আরও সমন্বিত ও শক্তিশালী বৈশ্বিক উদ্যোগের আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। চীনের দালিয়ানে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সভাপতি ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আলোইস জভিংগির সঙ্গে আলোচনায় তিনি এ আহ্বান জানান।
বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের আঞ্চলিক সম্মেলনের ফাঁকে অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা বদ্বীপ অঞ্চলগুলোর সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং জলবায়ুজনিত দুর্যোগের মুখে থাকা দেশগুলোর জন্য বিশেষ তহবিল ও প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রয়োজন।
বৈঠকে বাংলাদেশের পরিবেশ সুরক্ষা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং জলবায়ু অভিযোজনমূলক বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরা হয়। প্রধানমন্ত্রী জানান, নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে সরকার কর সুবিধা দিচ্ছে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এছাড়া আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ রোপণের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে বলে তিনি জানান। পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা ও কার্বন নিঃসরণ কমাতে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
নদী ও খাল পুনরুদ্ধারের অংশ হিসেবে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল পুনঃখননের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরা হয়। এই উদ্যোগ বন্যা ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি জলপ্রবাহ ও নদীকেন্দ্রিক পরিবেশ রক্ষায় সহায়ক হবে বলে জানানো হয়।
বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের প্রধান বাংলাদেশের জলবায়ু সহনশীলতা ও সবুজ উন্নয়ন কর্মসূচির প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা ও বাস্তবমুখী পদক্ষেপ বিশ্ব সম্প্রদায়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়ন ও জলবায়ুবান্ধব নীতিমালা আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী এবং বৈশ্বিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর আগ্রহ বাড়াতে সহায়ক হবে। আলোচনায় উত্থাপিত বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাসও দেন তিনি।
বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা, বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব উপস্থিত ছিলেন।
















