মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালীতে আটকে পড়া ১১ হাজারের বেশি নাবিককে সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম শুরু করেছে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সংস্থাটির মহাসচিব জানিয়েছেন, উপকূলীয় দেশগুলো, আঞ্চলিক অংশীদার এবং সামুদ্রিক শিল্প সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতায় ধাপে ধাপে এই উদ্ধার ও সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম পরিচালিত হবে। নিরাপদ নৌচলাচল নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা যাচাই সম্পন্ন করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত শুরুর পর হরমুজ প্রণালী কার্যত অচল হয়ে পড়ে। ফলে শত শত বাণিজ্যিক জাহাজ এবং হাজার হাজার নাবিক দীর্ঘ সময় ধরে এই জলপথে আটকে ছিলেন।
সাম্প্রতিক সমঝোতার পর নৌযান চলাচল ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে। একদিনেই কয়েক ডজন বাণিজ্যিক জাহাজ প্রণালী অতিক্রম করেছে, যা সংঘাত শুরুর পর সর্বোচ্চ বলে জানা গেছে।
ওমানের প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সংঘর্ষের ঝুঁকি এড়াতে ধীর ও নিয়ন্ত্রিত উপায়ে জাহাজ সরানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত পুরোপুরি স্বাভাবিক চলাচল শুরু হবে না।
এদিকে ইউরোপের কয়েকটি দেশ আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা মিশনে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে, যাতে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দ্রুত সচল করা যায়।
অন্যদিকে কূটনৈতিক তৎপরতাও অব্যাহত রয়েছে। ওমান ও ইরানের মধ্যে বাণিজ্যিক চলাচল পুনরায় চালুর বিভিন্ন প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে। তবে হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে কত সময় লাগবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, কোনো চূড়ান্ত সমঝোতার অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালী ব্যবহারকারী জাহাজের ওপর কোনো ধরনের শুল্ক বা টোল আরোপের সুযোগ থাকবে না। তবে ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যুদ্ধ-পূর্ব পরিস্থিতিতে এই প্রণালী আর কখনও ফিরে যাবে না এবং ভবিষ্যতে নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থার অধীনেই এটি পরিচালিত হবে।
















