হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান টানা ১৬ বছর ক্ষমতায় থাকার পর এবার কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন। সাম্প্রতিক জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, তার দল ফিদেসকে পেছনে ফেলে এগিয়ে রয়েছে বিরোধী দল তিসা এবং এর নেতা পিটার মাগিয়ার।
নির্বাচনের আগে প্রচারণায় নেমে অরবান আগের তুলনায় বেশি সক্রিয় হয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে শক্তিশালী অবস্থানে থাকা এই নেতা এবার ভোটারদের আস্থা ফিরে পেতে জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। তবে জরিপ অনুযায়ী, তিসা দল এগিয়ে রয়েছে উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে।
২০১০ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা অরবান আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও পরিচিত এক প্রভাবশালী নেতা। তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভ্লাদিমির পুতিন-এর সমর্থন পেয়েছেন এবং ইউরোপীয় রাজনীতিতে জাতীয়তাবাদী ধারার অন্যতম প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হন।
তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি বদলেছে। দুর্নীতি, ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ এবং ঘনিষ্ঠদের আর্থিক সুবিধা দেওয়ার অভিযোগে অরবান সরকারের জনপ্রিয়তা কমেছে। অনেক ভোটার, বিশেষ করে তরুণরা, এখন তাকে “প্রতিষ্ঠিত দুর্নীতিগ্রস্ত এলিট” হিসেবে দেখতে শুরু করেছে।
এই নির্বাচনে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—অরবান কি ইউক্রেন যুদ্ধ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সমালোচনাকে কাজে লাগিয়ে নিজের অবস্থান পুনরুদ্ধার করতে পারবেন? তার প্রচারণায় “শান্তি বনাম যুদ্ধ” ইস্যুটি জোরালোভাবে তুলে ধরা হচ্ছে।
অন্যদিকে, পিটার মাগিয়ার নিজেকে ভিন্নধারার নেতা হিসেবে উপস্থাপন করছেন। তিনি দেশের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও অর্থনৈতিক সমস্যার দিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই নির্বাচন শুধু হাঙ্গেরির জন্য নয়, বরং ইউরোপের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। অরবান জয়ী হলে ইউরোপের ডানপন্থী রাজনীতিতে নতুন গতি আসতে পারে, আর পরাজিত হলে সেই ধারা বড় ধাক্কা খেতে পারে।
গ্রামীণ এলাকায় এখনো অরবানের শক্ত ঘাঁটি রয়েছে, যেখানে তার দল দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব ধরে রেখেছে। তবে বিরোধী শিবিরও এবার সেই এলাকায় সমর্থন বাড়াতে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।
সব মিলিয়ে, দীর্ঘদিনের ক্ষমতাধর নেতা অরবানের জন্য এটি সবচেয়ে কঠিন নির্বাচন হতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। ফলাফল নির্ধারণ করবে হাঙ্গেরির রাজনৈতিক পথ কোন দিকে এগোবে।
















