স্বাভাবিকের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম মৌসুমি বৃষ্টিপাত হওয়ায় কৃষি উৎপাদন, খাদ্য সরবরাহ ও অর্থনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলায় জরুরি প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে ভারত সরকার।
দেশটির আবহাওয়া বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ৪৩ শতাংশ কম হয়েছে। আগামী কয়েক সপ্তাহেও বৃষ্টিপাতের ঘাটতি অব্যাহত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
ভারতের মোট বার্ষিক বৃষ্টিপাতের প্রায় ৭০ শতাংশ আসে মৌসুমি বৃষ্টির মাধ্যমে। দেশের বিপুল জনগোষ্ঠীর খাদ্য নিরাপত্তা এবং কৃষিনির্ভর অর্থনীতির জন্য এই বৃষ্টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে তুলা, সয়াবিন, আখ, ধান ও ভুট্টার মতো প্রধান ফসলের উৎপাদন অনেকাংশে মৌসুমি বৃষ্টির ওপর নির্ভরশীল।
এ বছর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে মৌসুমি বৃষ্টির আগমনও স্বাভাবিক সময়ের কয়েক দিন পরে হয়েছে, যা কৃষি খাত নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তন এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের আবহাওয়াগত পরিবর্তনের কারণে বৃষ্টিপাতের ধরনে বড় ধরনের প্রভাব পড়ছে।
দেশটির কৃষিমন্ত্রী জানিয়েছেন, সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় পানি সংরক্ষণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। জলাধার, পুকুর, খাল ও বাঁধ দ্রুত সংস্কার এবং সংরক্ষণ সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে দীর্ঘ তাপপ্রবাহের পর দেশের পশ্চিমাঞ্চলের বৃহৎ মহানগরে কিছুটা বৃষ্টিপাত শুরু হওয়ায় জনজীবনে স্বস্তি ফিরেছে। তবে পানি সংকটের কারণে স্থানীয় প্রশাসন ইতোমধ্যে কিছু এলাকায় পানি ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মৌসুমি বৃষ্টির ঘাটতি অব্যাহত থাকলে কৃষি উৎপাদন কমে যেতে পারে, খাদ্যদ্রব্যের দাম বাড়তে পারে এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও চাপের মুখে পড়তে পারে। তাই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার আগাম পরিকল্পনা ও পানি ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দিচ্ছে।
















