ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চূড়ান্ত সমঝোতা অর্জনের লক্ষ্যে আলোচনা চললেও পারমাণবিক কর্মসূচির তদারকি, হরমুজ প্রণালির ব্যবহার এবং সামরিক কর্মকাণ্ড নিয়ে দুই পক্ষের অবস্থানে এখনো বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়ে গেছে। আলোচনাকে কেন্দ্র করে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়লেও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে সমঝোতা না হওয়ায় অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, যেকোনো চূড়ান্ত সমঝোতার আওতায় হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর কোনো ধরনের শুল্ক বা টোল আরোপের সুযোগ থাকবে না। অপরদিকে ইরান পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের পুনরায় প্রবেশের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।
ইরানের সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশটি এখন আর শুধুমাত্র প্রতিরক্ষামূলক নীতিতে সীমাবদ্ধ নেই। প্রয়োজন হলে আগাম পদক্ষেপ গ্রহণের সক্ষমতাও তাদের কৌশলের অংশ। তাদের দাবি, দেশের সামরিক শক্তির একটি বড় অংশ এখনো ব্যবহার করা হয়নি।
একই সময়ে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক পারমাণবিক তদারকি সংস্থার সঙ্গে কোনো নতুন পরিদর্শন বা বৈঠকের পরিকল্পনা বর্তমানে নেই। দেশটির সঙ্গে ওই সংস্থার সম্পর্ক বিদ্যমান আইন, জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্ত এবং পার্লামেন্টের নির্দেশনার ভিত্তিতে পরিচালিত হবে বলে জানানো হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, অল্প সময়ের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ সমঝোতায় পৌঁছানো কঠিন হতে পারে। তাদের ধারণা, আলোচনা দীর্ঘ সময় ধরে চলতে পারে এবং উভয় পক্ষ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ছাড়াই আলোচনার প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখতে পারে।
এদিকে উপসাগরীয় অঞ্চলে কূটনৈতিক তৎপরতাও বৃদ্ধি পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কূটনীতিক কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মিত্র দেশের সফরে গিয়ে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং চলমান সমঝোতা নিয়ে আলোচনা করছেন। যুদ্ধের প্রভাব এবং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ দূর করাই এসব সফরের অন্যতম লক্ষ্য বলে মনে করা হচ্ছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট একটি প্রস্তাব অনুমোদন করেছে, যার মাধ্যমে ভবিষ্যতে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক পদক্ষেপ নিতে হলে কংগ্রেসের অনুমোদনের প্রয়োজন হবে। যদিও এই প্রস্তাব কার্যকর হওয়ার আগে রাষ্ট্রপতির ভেটোর মুখে পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইসরায়েলের এক জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী দাবি করেছেন, ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি পরিত্যাগ করবে বলে বিশ্বাস করা সরলতা হবে। প্রয়োজনে ইসরায়েল এককভাবেও পদক্ষেপ নিতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে যুদ্ধবিরতি মোটামুটি কার্যকর রয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। তবে সীমান্ত এলাকায় সামরিক তৎপরতা এখনো পুরোপুরি বন্ধ হয়নি এবং পরিস্থিতি সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
















