মিয়ানমারের সামরিক শাসককে উচ্চ পর্যায়ের রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্বাগত জানিয়ে চীন দেশটির সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদারের বার্তা দিলেও বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছে। বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক নেতৃত্ব এখনো দেশের গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলগুলোর ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ হওয়ায় চীনের কৌশলগত পরিকল্পনাগুলোও অনিশ্চয়তার মুখে রয়েছে।
সাম্প্রতিক সফরে দুই দেশের মধ্যে পরিবহন, জনস্বাস্থ্য ও গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন খাতে একাধিক সহযোগিতা নথি স্বাক্ষরিত হয়েছে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি অবকাঠামো প্রকল্প নিয়ে কোনো চূড়ান্ত অগ্রগতি হয়নি। এর মধ্যে রয়েছে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ রেলপথ প্রকল্প, যেগুলো চীনের আঞ্চলিক যোগাযোগ ও বাণিজ্য কৌশলের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে বিবেচিত।
বিশ্লেষকদের মতে, এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে প্রধান বাধা হলো সংশ্লিষ্ট অঞ্চলগুলোর বড় অংশ বর্তমানে বিভিন্ন জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠী ও সামরিক শাসনবিরোধী প্রতিরোধ শক্তির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ফলে কেন্দ্রীয় প্রশাসনের পক্ষে সেখানে কার্যকর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হচ্ছে না।
এদিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও সামরিক সরকারের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন অব্যাহত রয়েছে। সম্প্রতি জাতিসংঘের এক বিশেষ দূত সামরিক শাসনের পরিবর্তে অভ্যুত্থানের আগে দায়িত্বে থাকা বেসামরিক নেতৃত্বের সাংবিধানিক পরিচয় ব্যবহার করেন। একই সঙ্গে ইউরোপীয় দেশগুলোর পক্ষ থেকেও সামরিক সরকারের আয়োজিত নির্বাচনকে বৈধতা না দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সামরিক সরকারের পক্ষে কূটনৈতিক স্বীকৃতি অর্জন ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান বেসামরিক জনগণের ওপর বিমান হামলা, বাস্তুচ্যুতি এবং মানবিক সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে।
অন্যদিকে আঞ্চলিক বিশ্লেষকরাও মনে করছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে কেবল সামরিক প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা করে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। বরং বাস্তব নিয়ন্ত্রণে থাকা বিভিন্ন জাতিগত ও রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, চীন মিয়ানমারে নিজেদের প্রভাব ধরে রাখতে চাইছে এবং একটি নির্ভরশীল প্রশাসনের মাধ্যমে কৌশলগত স্বার্থ রক্ষা করতে আগ্রহী। তবে দেশের ভেতরের বাস্তবতা, প্রতিরোধ আন্দোলনের বিস্তার এবং আন্তর্জাতিক অস্বীকৃতির কারণে সেই লক্ষ্য অর্জন ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে।
















