অস্ট্রেলিয়ার উত্তরাঞ্চলের দুর্গম রেইনফরেস্টে এমন এক নতুন প্রজাতির মাকড়সার সন্ধান পেয়েছেন গবেষকরা, যা বিশেষ ধরনের স্প্রিং-ফাঁদ ব্যবহার করে শিকার ধরে। এই ক্ষুদ্র নিশাচর প্রাণীটি মূলত একটি নির্দিষ্ট প্রজাতির পিঁপড়াকে লক্ষ্য করে অনন্য কৌশলে শিকার করে।
গবেষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, মাকড়সাটি এমন একটি শঙ্কু আকৃতির জাল তৈরি করে, যা স্প্রিংয়ের মতো টানটান অবস্থায় থাকে। কোনো পিঁপড়া জালে স্পর্শ করলেই ফাঁদটি মুহূর্তের মধ্যে সক্রিয় হয়ে শিকারকে প্রচণ্ড গতিতে ছুড়ে মাকড়সার মূল জালে নিয়ে যায়।
অসাধারণ গতি ও শক্তির কারণে গবেষকরা মাকড়সাটির ডাকনাম দিয়েছেন ‘ব্যালিস্টা’, যা প্রাচীনকালে পাথর নিক্ষেপের জন্য ব্যবহৃত এক ধরনের যুদ্ধাস্ত্রের নাম।
গবেষণায় দেখা গেছে, মাকড়সাটি দিনের বেলা গাছের পাতার নিচে লুকিয়ে থাকে। রাত নামলে এটি নিচে নেমে এসে কয়েক ঘণ্টা ধরে বিশেষ ধরনের ফাঁদ তৈরি করে এবং পরে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান নেয়।
সবুজ বৃক্ষবাসী পিঁপড়া ফাঁদের কাছে এলে এবং সেটিতে কামড় দিলে সঙ্গে সঙ্গে ফাঁদটি সক্রিয় হয়ে যায়। তখন শিকারটি প্রচণ্ড ত্বরণে ছিটকে জালের ভেতরে আটকা পড়ে। গবেষকদের মতে, এই ত্বরণের মাত্রা যুদ্ধবিমান চালকদের সহ্য করা সর্বোচ্চ বলের চেয়েও বহু গুণ বেশি।
আরও বিস্ময়কর বিষয় হলো, মাকড়সাটি কেবল একটি নির্দিষ্ট প্রজাতির পিঁপড়াই শিকার করে। অন্য প্রজাতির পিঁপড়া ফাঁদের কাছে আনা হলেও সেগুলো ধরা পড়েনি। গবেষকদের ধারণা, মাকড়সাটি বিশেষ রাসায়নিক সংকেত ব্যবহার করে লক্ষ্যবস্তু পিঁপড়াকে আকৃষ্ট করে।
গবেষকরা বলছেন, এটি এমন এক বিরল উদাহরণ যেখানে মাকড়সার জাল কেবল একটি নির্দিষ্ট শিকার ধরার জন্য তৈরি হয়েছে এবং ফাঁদটি শিকার নিজেই সক্রিয় করে, মাকড়সা নয়।
নতুন এই আবিষ্কার মাকড়সার শিকার কৌশল ও বিবর্তন সম্পর্কে বিজ্ঞানীদের নতুন ধারণা দিচ্ছে। গবেষণার ফলাফল সম্প্রতি একটি আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে।
















