মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী হামলার ৩৩তম দিনে সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। একদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, কোনো চুক্তি ছাড়াই দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে যুদ্ধ শেষ হতে পারে, অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় তাদের কোনো আস্থা নেই।
ইরানে চলমান হামলা
দেশটির বিভিন্ন শহরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে। ইসফাহান, শিরাজ, আহভাজ, কারাজ, কেরমানশাহ ও বন্দর আব্বাসসহ বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। হামলার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে শিল্পকারখানা, ওষুধ উৎপাদন কেন্দ্র, বন্দর অবকাঠামো ও আবাসিক এলাকাও রয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানি গণমাধ্যম।
তেহরানের একটি ওষুধ কাঁচামাল উৎপাদন কারখানার গবেষণা বিভাগ ধ্বংস হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এছাড়া হরমুজ প্রণালীর কেশম দ্বীপের একটি লবণাক্ত পানি বিশুদ্ধকরণ প্ল্যান্টও হামলায় অচল হয়ে পড়েছে।
ইরানের অবস্থান
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বার্তা আদান-প্রদান হলেও তা কোনো আলোচনার অংশ নয় এবং ওয়াশিংটনের প্রতি তাদের আস্থা শূন্যের কাছাকাছি। বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত যুদ্ধ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা কম এবং হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়েও উত্তেজনা অব্যাহত থাকতে পারে।
এ পর্যন্ত দুই হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, যার মধ্যে অনেক বেসামরিক নাগরিক রয়েছেন।
কূটনৈতিক তৎপরতা
এই সংঘাত ঘিরে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কূটনৈতিক তৎপরতা বেড়েছে। চীন ও পাকিস্তান যৌথভাবে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছে। অন্যদিকে স্পেন, ফ্রান্স ও ইতালি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কার্যক্রমে সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে।
কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতারা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফেরাতে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। ভ্যাটিকানও যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।
গালফ অঞ্চলের পরিস্থিতি
কুয়েতে ড্রোন হামলার কারণে বিমান চলাচল বন্ধ রয়েছে। বাহরাইনে একাধিকবার সতর্কতামূলক সাইরেন বেজেছে। সৌদি আরব জানিয়েছে, তারা নতুন করে ড্রোন ভূপাতিত করেছে। কাতারের উপকূলে একটি তেলবাহী জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ও অর্থনৈতিক প্রভাব
মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে, সামরিক চাপের মাধ্যমেই তারা সমাধান খুঁজছে। এদিকে যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়েছে এবং জ্বালানি খাতে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়েও পড়ছে।
ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি
ইরান ও হিজবুল্লাহর সমন্বিত হামলায় ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থানে সতর্কতা জারি রয়েছে। ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। যদিও বেশিরভাগ হামলা প্রতিহত করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
লেবানন ও আঞ্চলিক উত্তেজনা
লেবাননে ইসরায়েলি হামলা ও স্থল অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এতে ইতোমধ্যে এক হাজারের বেশি মানুষ নিহত এবং লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। পরিস্থিতি আরও বিস্তৃত সংঘাতে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সামগ্রিকভাবে, যুদ্ধের ৩৩তম দিনে সামরিক হামলা, কূটনৈতিক তৎপরতা এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা—সবকিছু মিলিয়ে পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত অনিশ্চিত ও উদ্বেগজনক অবস্থায় রয়েছে।
















