প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মেটার নতুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ছবি তৈরির সুবিধা নিয়ে গোপনীয়তা ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়েছে। নতুন এই সুবিধার মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের প্রকাশ্য প্রোফাইল ছবি ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের নতুন ছবি তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে, যা নিয়ে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, অধিকারকর্মী এবং গোপনীয়তা রক্ষাকারী সংগঠনগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
সমালোচকদের দাবি, ব্যবহারকারীর স্পষ্ট সম্মতি ছাড়া তাদের ছবি ব্যবহার করে নতুন ছবি তৈরি করার সুযোগ অপব্যবহারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। বিশেষ করে ভুয়া বা বিভ্রান্তিকর ছবি তৈরি, হয়রানি এবং ব্যক্তিগত মর্যাদা ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে তারা মনে করছেন।
মেটার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যাদের প্রোফাইল সবার জন্য উন্মুক্ত, তারাও চাইলে নির্দিষ্ট একটি আলাদা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার মাধ্যমে নিজেদের ছবি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই সুবিধায় ব্যবহারের অনুমতি বন্ধ করতে পারবেন। আর যাদের প্রোফাইল ব্যক্তিগত অবস্থায় রয়েছে, তাদের ছবি এই সুবিধার আওতায় ব্যবহার করা হবে না বলে প্রতিষ্ঠানটি দাবি করেছে।
গোপনীয়তা বিষয়ক সংগঠনগুলোর মতে, মানুষের ছবি ও ব্যক্তিগত তথ্যকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করার প্রবণতা উদ্বেগজনক। তাদের ভাষ্য, স্পষ্ট সম্মতি ছাড়া বাস্তব মানুষের ছবি ব্যবহার করে নতুন ছবি তৈরি করা ব্যক্তিগত গোপনীয়তার জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
বর্তমানে বাজারে লিখিত নির্দেশনা থেকে ছবি তৈরির একাধিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সেবা থাকলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বাস্তব ব্যবহারকারীদের প্রোফাইল ছবি সরাসরি ব্যবহার করার এই সুবিধাকে নতুন মাত্রা হিসেবে দেখছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকেরা।
প্রতিষ্ঠানটির দাবি, ব্যবহারকারীরা নিজেদের একাধিক ছবি ব্যবহার করে নতুন সৃজনশীল ছবি তৈরি করতে পারবেন। পাশাপাশি পূর্বনির্ধারিত নকশা, পরামর্শভিত্তিক নির্দেশনা এবং ছবির ওপর সরাসরি সম্পাদনার সুবিধাও রাখা হয়েছে। সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য সেবাটি বিনামূল্যে থাকলেও অতিরিক্ত ব্যবহারের জন্য অর্থের বিনিময়ে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হবে।
এদিকে নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও গোপনীয়তা অধিকারকর্মীরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে বাস্তব মানুষের ছবি পরিবর্তন ও ছড়িয়ে দেওয়ার ঝুঁকি নিয়ে আরও কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, প্রযুক্তির উন্নয়নের পাশাপাশি ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা এবং ব্যবহারকারীর সম্মতি নিশ্চিত করাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
















