ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুদ দখল করা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সামরিকভাবে অত্যন্ত জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ একটি অভিযান হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই ধরনের পদক্ষেপ বিবেচনা করছেন বলে জানা গেলেও বাস্তবে এটি বাস্তবায়ন করা কঠিন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের অভিযানে শুধু বিমান হামলা যথেষ্ট নয়, বরং স্থলবাহিনী মোতায়েন করতে হবে এবং পুরো প্রক্রিয়া শেষ করতে কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা বলছেন, এটি ইতিহাসের অন্যতম জটিল সামরিক অভিযানে পরিণত হতে পারে। কারণ ইরানের ইউরেনিয়াম মজুদ বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকতে পারে, যা শনাক্ত করাই বড় চ্যালেঞ্জ।
ধারণা করা হচ্ছে, উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের বড় অংশ ইসফাহান অঞ্চলের ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় সংরক্ষিত রয়েছে। তবে নাতাঞ্জ ও ফোরদোসহ আরও কয়েকটি স্থাপনাতেও এ ধরনের উপাদান থাকতে পারে।
এসব স্থাপনা মাটির গভীরে এবং সুরক্ষিত সুড়ঙ্গে রাখা হয়েছে, যা খুঁজে বের করতে ভারী যন্ত্রপাতি ও সময় প্রয়োজন হবে। একই সঙ্গে অভিযান চলাকালে ইরানের পাল্টা হামলার ঝুঁকিও থাকবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে প্রথমে ওই এলাকা নিয়ন্ত্রণে নিতে হবে, তারপর বিশেষ প্রশিক্ষিত দল পাঠিয়ে ইউরেনিয়াম উদ্ধার করতে হবে। পুরো সময়জুড়ে সেনাদের ওপর হামলার আশঙ্কা থাকবে।
এছাড়া উদ্ধার করা ইউরেনিয়াম কীভাবে সরানো হবে সেটিও বড় প্রশ্ন। এটি দেশ থেকে সরিয়ে নেওয়া বা সেখানেই নিষ্ক্রিয় করার—উভয় পদ্ধতিই সময়সাপেক্ষ ও ঝুঁকিপূর্ণ।
ইরান কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে তাও অনিশ্চিত। স্থলভাগে অবস্থানরত মার্কিন সেনারা বিচ্ছিন্ন অবস্থায় পড়তে পারে এবং উদ্ধার বা চিকিৎসা সহায়তা পৌঁছানো কঠিন হয়ে যেতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের ইউরেনিয়াম দখলের চেষ্টা করলে তা সংঘাতকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে এবং বড় ধরনের সামরিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
তাদের ভাষায়, এমন একটি অভিযানে অসংখ্য অনিশ্চয়তা রয়েছে, যেখানে যেকোনো সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।
















