মানুষের প্রতি অতিরিক্ত অবিশ্বাস বা নৈরাশ্যবাদ অনেক সময় আমাদের সুরক্ষা দেয় বলে মনে হলেও, নতুন গবেষণা বলছে এর উল্টো প্রভাবই বেশি দেখা যায়। বরং এটি সামাজিক সম্পর্ক দুর্বল করে এবং হতাশা বাড়িয়ে দেয়।
গবেষকদের মতে, যারা সবসময় অন্যদের সন্দেহের চোখে দেখেন, তারা প্রতারণা ঠেকাতে অন্যদের তুলনায় বেশি সফল হন না। সত্য-মিথ্যা আলাদা করার ক্ষেত্রে নৈরাশ্যবাদীদের কোনো বাড়তি সুবিধা নেই।
গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষ সাধারণত অন্যের কথা সত্য বলে ধরে নেওয়ার প্রবণতা রাখে। এটিকে বলা হয় স্বাভাবিক বিশ্বাস প্রবণতা। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই প্রবণতা নৈরাশ্যবাদী বা আশাবাদী—উভয়ের মধ্যেই প্রায় সমানভাবে কাজ করে।
মুখভঙ্গি বা শরীরী ভাষা দেখে মিথ্যা ধরাও খুব কঠিন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানুষের আচরণের সংকেত এতটাই ভিন্ন যে তা থেকে নির্ভরযোগ্যভাবে মিথ্যা শনাক্ত করা প্রায় অসম্ভব।
তবে প্রতারণা চেনার ক্ষেত্রে কিছু আলাদা বিষয় কাজ করে। যেমন সন্দেহজনক ইমেইল, অস্বাভাবিক প্রস্তাব বা পরিচয়ের অস্পষ্টতা—এই ধরনের সংকেত বুঝতে পারাই গুরুত্বপূর্ণ। এটি ব্যক্তির বুদ্ধিমত্তা ও সচেতনতার ওপর নির্ভর করে, সাধারণ অবিশ্বাসের ওপর নয়।
আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে, যারা অন্যের ভালো কাজ দেখে অনুপ্রাণিত হন এবং ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রাখেন, তারা প্রতারণা শনাক্ত করতে বরং বেশি দক্ষ হন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতিরিক্ত অবিশ্বাস সামাজিক সম্পর্কেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। যারা অন্যকে বিশ্বাস করেন, তারা সাধারণত বেশি সহানুভূতিশীল হন এবং তাদের সম্পর্কও বেশি গভীর হয়।
এমনকি বিশ্বাস একটি স্ব-পরিপূর্ণ ভবিষ্যদ্বাণীর মতো কাজ করতে পারে। আপনি যদি কাউকে বিশ্বাস করেন, অনেক সময় সে সেই বিশ্বাস রাখার চেষ্টা করে। আর সবসময় সন্দেহ করলে সম্পর্কের অবনতি ঘটে।
তাই গবেষকদের পরামর্শ, অন্ধ বিশ্বাস নয়, বরং সচেতনতা ও বাস্তবতা বিবেচনা করে ভারসাম্যপূর্ণ মনোভাব গড়ে তোলা উচিত। প্রয়োজনে বিশ্বস্ত মানুষের সঙ্গে পরামর্শ করা যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, জীবনে কিছু প্রতারণা বা হতাশা আসতেই পারে, তবে তা থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়াই গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত নৈরাশ্যবাদ শেষ পর্যন্ত মানুষকে একাকীত্ব ও নেতিবাচকতার দিকে ঠেলে দিতে পারে।
















