ব্রিটেনের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অ্যান্ডি বার্নহামের দায়িত্ব গ্রহণের সম্ভাবনাকে ঘিরে বিশ্বের বিভিন্ন রাজধানীতে শুরু হয়েছে কূটনৈতিক মূল্যায়ন। যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ইউরোপীয় দেশ, ভারত ও চীনসহ গুরুত্বপূর্ণ অংশীদাররা নতুন নেতৃত্বের অধীনে ব্রিটেনের পররাষ্ট্রনীতি, নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং বাণিজ্যিক সম্পর্ক কোন পথে এগোবে, তা পর্যবেক্ষণ করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের ধারণা, নতুন প্রধানমন্ত্রীকে শুরুতেই অভিবাসন, জ্বালানি নীতি, প্রতিরক্ষা ব্যয় এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ইস্যুতে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে। একই সঙ্গে দুই দেশের বিদ্যমান সম্পর্ক বজায় রাখা এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।
চীনের দৃষ্টিতে ব্রিটেনের ঘন ঘন রাজনৈতিক নেতৃত্ব পরিবর্তন কিছুটা অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত বহন করে। তবে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, অবকাঠামো উন্নয়ন, বিনিয়োগ এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে নতুন সরকারের অবস্থান কী হবে, সেদিকেও বেইজিংয়ের নজর রয়েছে।
রাশিয়ার বিশ্লেষকদের মতে, ব্রিটেনের নেতৃত্বে পরিবর্তন এলেও দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা খুবই কম। বিশেষ করে ইউক্রেন প্রশ্নে লন্ডনের অবস্থান আগের মতোই কঠোর থাকবে বলেই মস্কোর ধারণা।
ইউক্রেনও নতুন নেতৃত্বকে গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে। কিয়েভ আশা করছে, ব্রিটেন সামরিক, অর্থনৈতিক এবং কূটনৈতিক সহায়তা অব্যাহত রাখবে এবং ইউক্রেনের প্রতি দীর্ঘমেয়াদি সমর্থনের নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসবে না।
ইউরোপীয় দেশগুলো বিশেষভাবে নজর রাখছে ব্রিটেনের প্রতিরক্ষা ব্যয়, নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং ইউরোপীয় অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের উদ্যোগের ওপর। একই সঙ্গে অভিবাসন, বাণিজ্য ও সীমান্ত সহযোগিতার বিষয়গুলোও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
ফ্রান্স আশা করছে, দুই দেশের বিদ্যমান সহযোগিতা নতুন সরকারের অধীনেও অব্যাহত থাকবে। বিশেষ করে প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা এবং অবৈধ অভিবাসন মোকাবিলায় যৌথ উদ্যোগ আরও শক্তিশালী হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ভারতের দৃষ্টিতে ব্যক্তির চেয়ে নীতির ধারাবাহিকতাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। দুই দেশের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়ন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, দক্ষ জনশক্তি বিনিময় এবং শিক্ষা সহযোগিতা অব্যাহত রাখাই নয়াদিল্লির প্রধান প্রত্যাশা।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার পাশাপাশি দ্রুত আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আস্থা অর্জন করতে হবে। পরিবর্তিত বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে তাঁর পররাষ্ট্রনীতি ও কূটনৈতিক অগ্রাধিকারই ব্রিটেনের ভবিষ্যৎ আন্তর্জাতিক অবস্থান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
















