আজারবাইজান ধীরে ধীরে ইউরোপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অংশীদার এবং ইউরেশীয় ভূঅর্থনীতির একটি প্রভাবশালী রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে বলে এক বিশ্লেষণে দাবি করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানি, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ এবং আঞ্চলিক যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে দেশটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের অবস্থান আরও শক্তিশালী করছে।
বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে, সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা করে আজারবাইজান আন্তর্জাতিক জ্বালানি সহযোগিতার মাধ্যমে নতুন উন্নয়নের পথ তৈরি করে। পরবর্তীতে বড় আন্তর্জাতিক জ্বালানি চুক্তি এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় গ্যাস করিডোর প্রকল্প দেশটির অর্থনীতিকে নতুন গতি দেয় এবং ইউরোপে প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে শুরু করে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে দেশটি একাধিক ইউরোপীয় দেশে প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানি করছে এবং আগামী কয়েক বছরে উৎপাদন আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে। এর পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানিতেও উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ করা হচ্ছে। নতুন চুক্তির আওতায় এক হাজার মেগাওয়াটের বেশি সবুজ জ্বালানি উৎপাদন সক্ষমতা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক জলবায়ু সম্মেলনের আয়োজনের মাধ্যমে আজারবাইজান বৈশ্বিক জলবায়ু কূটনীতিতেও সক্রিয় ভূমিকা রাখছে। উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানো, ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় তহবিল গঠন এবং বৈশ্বিক কার্বন বাজার চালুর মতো উদ্যোগে দেশটির সম্পৃক্ততার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
অর্থনৈতিক দিক থেকেও আজারবাইজানকে তুলনামূলক স্থিতিশীল দেশ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ মোট দেশজ উৎপাদনের তুলনায় কম, দারিদ্র্যের হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে এবং শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নেও অগ্রগতি হয়েছে। যদিও তেল ও গ্যাস এখনও অর্থনীতির বড় অংশজুড়ে রয়েছে, সরকার অর্থনীতিকে বহুমুখী করার উদ্যোগও অব্যাহত রেখেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপ ও এশিয়ার সংযোগস্থলে অবস্থানের কারণে আজারবাইজানের পরিবহন ও রেলপথ অবকাঠামোর ভূঅর্থনৈতিক গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে। একই সঙ্গে ইউরোপের জ্বালানি উৎস বৈচিত্র্যময় করার প্রচেষ্টায় দেশটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, জ্বালানি সহযোগিতার পাশাপাশি কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রেও আজারবাইজান পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সঙ্গে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রচলিত জ্বালানির পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে আজারবাইজান ভবিষ্যতে ইউরেশীয় অঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও জ্বালানি কেন্দ্র হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে চাইছে।
















