মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক অভিযানে বিপুল পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র ও আকাশ প্রতিরক্ষা অস্ত্র ব্যবহারের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভান্ডারের ওপর চাপ বেড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে তাইওয়ানকে ঘিরে সামরিক ও কূটনৈতিক চাপ আরও বাড়াতে পারে চীন। তবে বর্তমান বাস্তবতায় তাইওয়ানে পূর্ণাঙ্গ সামরিক অভিযান চালানো এখনো বেইজিংয়ের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
সাম্প্রতিক সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র বিপুল সংখ্যক দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং অন্যান্য উন্নত অস্ত্র ব্যবহার করেছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এসব অস্ত্র পুনরায় উৎপাদন ও মজুত করতে দীর্ঘ সময় লাগবে, যা ভবিষ্যতে একাধিক অঞ্চলে একসঙ্গে সামরিক সক্ষমতা ধরে রাখার ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, অস্ত্রের মজুত কমে যাওয়া মানেই প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়েছে—এমন ধারণা সঠিক নয়। দেশটির কাছে এখনো অত্যাধুনিক নৌবিধ্বংসী অস্ত্র, সাবমেরিনভিত্তিক হামলা সক্ষমতা এবং অন্যান্য কৌশলগত সামরিক শক্তি রয়েছে, যা সম্ভাব্য সংঘাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
অন্যদিকে, তাইওয়ানে পূর্ণাঙ্গ সামরিক অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে চীনেরও বড় সীমাবদ্ধতা রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, বিপুলসংখ্যক সেনা ও ভারী সামরিক সরঞ্জাম দ্রুত দ্বীপটিতে পৌঁছে দেওয়ার সক্ষমতা এখনো পর্যাপ্ত নয়। একই সঙ্গে তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি, স্থানীয় প্রতিরোধ এবং দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের সম্ভাবনা বেইজিংয়ের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করে।
অর্থনৈতিক দিক থেকেও এমন সংঘাতের মূল্য অত্যন্ত বেশি হতে পারে। তাইওয়ান প্রণালি ও গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথে অস্থিরতা সৃষ্টি হলে চীনের রপ্তানি, শিল্প উৎপাদন এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা বড় ধরনের ধাক্কার মুখে পড়তে পারে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও বিনিয়োগ সংকটও অর্থনীতির ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, এ কারণে চীন তাৎক্ষণিক পূর্ণাঙ্গ সামরিক অভিযান না চালিয়ে তাইওয়ানকে ঘিরে অবরোধ, সামরিক মহড়া, আকাশ ও সমুদ্রপথে চাপ বৃদ্ধি এবং অন্যান্য কৌশলগত পদক্ষেপের মাধ্যমে চাপ অব্যাহত রাখতে পারে।
তাদের মতে, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে দ্রুত ব্যবহৃত অস্ত্র পুনরায় উৎপাদন ও মজুত নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে প্রতিরোধ সক্ষমতা বজায় রাখাও ওয়াশিংটনের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হয়ে থাকবে।
















