যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক ঘিরে নতুন সংকটের মধ্যে ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে দোষারোপের প্রবণতা তীব্র হয়েছে। সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনা ও শান্তি প্রক্রিয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়ার পর দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানকে ব্যর্থতার জন্য দায়ী করার প্রচেষ্টা বাড়ছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মত।
বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক হামলা ও উত্তেজনার কারণে সমঝোতা কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা দুর্বল হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় সরকারি বক্তব্যে প্রেসিডেন্টকে প্রধান দায়ী ব্যক্তি হিসেবে তুলে ধরা হলেও, এর আড়ালে ক্ষমতাসীন মহলের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য ও ক্ষমতার দ্বন্দ্ব চাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সমঝোতা নিয়ে আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী অন্যান্য প্রভাবশালী নেতাদের নাম সরকারি বক্তব্যে খুব একটা আসছে না। ফলে ব্যর্থতার রাজনৈতিক দায় এককভাবে প্রেসিডেন্টের ওপর চাপানোর কৌশল স্পষ্ট হচ্ছে বলে পর্যবেক্ষকদের ধারণা।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের ক্ষমতাকাঠামোর ভেতরে একদিকে রয়েছে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও সীমিত আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততার পক্ষে অবস্থান নেওয়া একটি অংশ, অন্যদিকে রয়েছে কঠোর অবস্থান সমর্থনকারী আরেকটি অংশ, যারা পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে সমঝোতার বিরোধী। এই মতপার্থক্য এখন আরও প্রকাশ্য হয়ে উঠছে।
তাদের মতে, বর্তমান প্রেসিডেন্টের সীমিত রাজনৈতিক প্রভাব এবং তুলনামূলক দুর্বল অবস্থান তাকে সহজেই রাজনৈতিক দায়ভার বহনের উপযুক্ত ব্যক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। ফলে সমঝোতা সফল হলে কৃতিত্ব অন্যরা পেলেও ব্যর্থ হলে দায় প্রেসিডেন্টের কাঁধে চাপানো হচ্ছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি শুধু একটি সমঝোতা স্মারকের ভবিষ্যৎ নয়, বরং ইরানের ক্ষমতাকেন্দ্রের অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য, নীতিগত বিভাজন এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিকনির্দেশনাকেও নতুনভাবে সামনে নিয়ে এসেছে।
















