ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন এবং শিগগিরই ওয়াশিংটন সফরে সম্মত হয়েছেন বলে ব্রাজিল সরকার জানিয়েছে।
সোমবার প্রায় ৫০ মিনিটের এই ফোনালাপে ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতি, গাজা নিয়ে ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ‘শান্তি বোর্ড’ এবং সংগঠিত অপরাধ দমনের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয় বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
ব্রাজিল সরকারের বিবৃতিতে বলা হয়, ভেনেজুয়েলা ইস্যুতে লুলা আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি ট্রাম্পকে জানান, ভেনেজুয়েলার জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে হবে।
সম্প্রতি ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রে আটক করে নেওয়ার ঘটনায় কড়া সমালোচনা করেছেন লুলা। তার ভাষায়, এই পদক্ষেপ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে একটি অগ্রহণযোগ্য সীমা অতিক্রম করেছে। তিনি ট্রাম্পের সঙ্গেও এই অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
তবে ব্রাজিল সরকারের বিবৃতিতে ট্রাম্পের প্রস্তাবিত উদ্যোগে লুলা আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হবেন কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলা হয়নি।
শান্তি বোর্ড প্রসঙ্গ
লুলা ট্রাম্পকে অনুরোধ করেন, প্রস্তাবিত শান্তি বোর্ডের কার্যক্রম যেন কেবল গাজা বিষয়েই সীমাবদ্ধ থাকে এবং সেখানে ফিলিস্তিনের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হয়। বিশ্বশক্তিগুলোর মধ্যে আশঙ্কা রয়েছে, এই উদ্যোগ জাতিসংঘের ভূমিকার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়ে উঠতে পারে।
এ ছাড়া লুলা জাতিসংঘের কাঠামোগত সংস্কারের আহ্বান জানিয়ে নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য সংখ্যা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।
গত শুক্রবার লুলা অভিযোগ করেন, ট্রাম্প শান্তি বোর্ডের মাধ্যমে এমন একটি নতুন জাতিসংঘ গড়ে তুলতে চাইছেন, যেখানে একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ থাকবে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে। গাজা পুনর্গঠন তদারকির উদ্দেশ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হলেও এর কার্যপরিধি স্পষ্টভাবে সীমাবদ্ধ নয় বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন দেশ।
ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের মতো যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্ররাও এই প্রস্তাব নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে।
সম্পর্কে উষ্ণতা
গত অক্টোবরের প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠকের পর থেকে লুলা ও ট্রাম্পের মধ্যে একাধিকবার যোগাযোগ হয়েছে। দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনের পর এতে দুই দেশের সম্পর্কের উন্নতি ঘটে।
এর ধারাবাহিকতায় ব্রাজিলের গুরুত্বপূর্ণ কিছু রপ্তানিপণ্যের ওপর আরোপিত উচ্চ শুল্ক প্রত্যাহার করেছে ট্রাম্প প্রশাসন এবং এক শীর্ষ ব্রাজিলীয় বিচারকের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞাও তুলে নেওয়া হয়েছে।
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্সি জানিয়েছে, ফেব্রুয়ারিতে ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়া সফর শেষে লুলা ওয়াশিংটনে যাবেন। সফরের নির্দিষ্ট তারিখ শিগগিরই জানানো হবে।
এদিকে লুলা সাম্প্রতিক দিনগুলোতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গেও টেলিফোনে কথা বলেছেন বলে জানিয়েছে ব্রাজিল সরকার।
















