ক্যানবেরা — ইসলামবিদ্বেষমূলক বক্তব্য ও ঘৃণামূলক প্রচারণার অভিযোগে এক ইসরায়েলি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনফ্লুয়েন্সারের ভিসা বাতিল করেছে অস্ট্রেলিয়া। দেশটির সরকার জানিয়েছে, যারা ঘৃণা ছড়ানোর উদ্দেশ্যে আসতে চায়, তাদের জন্য অস্ট্রেলিয়ার দরজা খোলা নয়।
অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে বলেন, ঘৃণা ছড়ানো কোনোভাবেই অস্ট্রেলিয়ায় আসার গ্রহণযোগ্য কারণ হতে পারে না। তার এই মন্তব্য আসে সেই দিনই, যেদিন ইসরায়েলি ইনফ্লুয়েন্সার স্যামি ইয়াহুদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, উড়োজাহাজ ছাড়ার মাত্র তিন ঘণ্টা আগে তার ভিসা বাতিল করা হয়েছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, অস্ট্রেলিয়ায় ভ্রমণ করতে হলে সঠিক ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে এবং সঠিক উদ্দেশ্য থাকতে হবে। কর্তৃপক্ষের মতে, ইয়াহুদের অনলাইন কার্যক্রম অস্ট্রেলিয়ার ভিসা নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
ভিসা বাতিল হওয়ার ঠিক আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইয়াহুদ ইসলাম সম্পর্কে একাধিক আপত্তিকর মন্তব্য করেন। তিনি দাবি করেন, ইসলাম নাকি অবিশ্বাসী, ধর্মত্যাগী, নারী অধিকার, শিশু অধিকার কিংবা সমকামীদের অধিকার মেনে নেয় না। একই সঙ্গে তিনি ইসলামকে একটি ঘৃণ্য ও আক্রমণাত্মক মতাদর্শ হিসেবে উল্লেখ করেন।
চলতি মাসের শুরুতে সিডনির বন্ডি বিচে একটি ইহুদি অনুষ্ঠানে বন্দুক হামলার পর অস্ট্রেলিয়া ঘৃণাজনিত অপরাধ সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করে। ওই হামলায় ১৫ জন নিহত হন। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই প্রেক্ষাপটে ঘৃণামূলক বক্তব্য বা উসকানিকে কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।
ইয়াহুদ যুক্তরাজ্যে জন্মগ্রহণকারী এবং সম্প্রতি ইসরায়েলের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন। তিনি অতীতে যুক্তরাষ্ট্রের এক মুসলিম কংগ্রেস সদস্যকে দেশ থেকে বহিষ্কারের আহ্বান জানান এবং ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের সহায়তাকারী জাতিসংঘ সংস্থাকে বিদ্রুপ করেন।
ভিসা বাতিল হলেও ইয়াহুদ দাবি করেছেন, তিনি ইসরায়েল থেকে আবুধাবি যান, তবে সেখান থেকে মেলবোর্নগামী সংযোগ ফ্লাইটে উঠতে তাকে বাধা দেওয়া হয়। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, তাকে বেআইনিভাবে অস্ট্রেলিয়ায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে এবং এ বিষয়ে তিনি আইনি পদক্ষেপ নেবেন। তার ভাষায়, এটি স্বৈরাচার, সেন্সরশিপ ও নিয়ন্ত্রণের একটি উদাহরণ।
অস্ট্রেলিয়ার গণমাধ্যম জানিয়েছে, অতীতেও একই আইনের আওতায় ঘৃণামূলক বক্তব্যের কারণে একাধিক ব্যক্তির ভিসা বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে ইসরায়েলি-আমেরিকান এক কর্মী এবং ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী এক সংসদ সদস্যও রয়েছেন।
এদিকে, রক্ষণশীল অস্ট্রেলিয়ান ইহুদি সংগঠন, যারা ইয়াহুদকে সিডনি ও মেলবোর্নে বক্তব্য দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিল, তারা সরকারের এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
















