সেনাসদরে তিন বাহিনী প্রধানের সঙ্গে ড. ইউনূসের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক; নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্বের ওপর বিশেষ জোর
আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ‘জুলাই সনদ’ বা গণভোটকে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের এক ‘তাৎপর্যপূর্ণ সন্ধিক্ষণ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সেনাসদরের হেলমেট অডিটোরিয়ামে সশস্ত্র বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের মতবিনিময় সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। দেশের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থা নির্ধারণের এই সংবেদনশীল সময়ে একটি অবাধ, অংশগ্রহণমূলক ও উৎসবমুখর পরিবেশ নিশ্চিত করতে তিনি সশস্ত্র বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন। প্রধান উপদেষ্টা বিশেষ জোর দিয়ে বলেন, দীর্ঘ সময় ভোটাধিকার বঞ্চিত নাগরিক ও তরুণ প্রজন্মের আস্থার প্রতিদান দিতে মাঠ পর্যায়ে বাহিনীর প্রতিটি সিদ্ধান্ত হতে হবে আইনসম্মত, সংযত ও নিরপেক্ষ। কোনো সামান্য বিচ্যুতি যেন জনগণের আস্থায় চির না ধরায়—সে বিষয়ে কঠোর সতর্কবার্তা প্রদান করেন তিনি।
নির্বাচনের নিরাপত্তায় ১ লক্ষ সেনাসদস্যসহ প্রায় ৯ লক্ষ নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েনের চূড়ান্ত প্রস্তুতির মাঝে আজ সেনাসদরে এই গুরুত্বপূর্ণ স্ট্র্যাটেজিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো।
নির্বাচনি নিরাপত্তায় নতুন কৌশল ও নির্দেশনা
প্রধান উপদেষ্টা তাঁর ভাষণে সশস্ত্র বাহিনীর জন্য কয়েকটি সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা প্রদান করেন:
- নিরপেক্ষতার কঠোর পরীক্ষা: সশস্ত্র বাহিনীকে যেকোনো রাজনৈতিক প্রভাবের ঊর্ধ্বে থেকে পুরোপুরি জনমুখী ও পেশাদার হয়ে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
- গণভোট ও সংসদ নির্বাচনের গুরুত্ব: এবারের ভোটে মানুষ একদিকে যেমন জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করবে, তেমনি গণভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্র সংস্কারের ‘জুলাই সনদ’ গ্রহণ বা বর্জন করবে—যা অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে ভিন্নতর।
- মাঠ পর্যায়ের নিয়ন্ত্রণ: বিচ্যুতি এড়াতে সব ধরণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে বলা হয়েছে।
সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আধুনিকায়ন
ড. ইউনূস বাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে সরকারের নেওয়া সাম্প্রতিক কূটনৈতিক পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন:
১. আন্তর্জাতিক সহযোগিতা: নেদারল্যান্ডস, মালয়েশিয়া, ইতালি, জাপান এবং থাইল্যান্ডের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষর বা প্রক্রিয়াধীনের কথা জানান তিনি।
২. ভবিষ্যৎ রূপরেখা: বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের এই উদ্যোগগুলো নির্বাচিত পরবর্তী সরকারের জন্যও একটি শক্তিশালী ও আধুনিক সশস্ত্র বাহিনী গঠনের ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।
উপস্থিত শীর্ষ নেতৃত্ব
প্রধান উপদেষ্টা অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে তাঁকে অভ্যর্থনা জানান:
- সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান
- নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান
- বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন
- সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) লে: জেনারেল এস এম কামরুল হাসান
নিরাপত্তার ‘ফাইনাল’ প্রস্তুতি
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে নিরাপত্তা চাদর তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ৯ লক্ষ সদস্যের সমন্বয়ে ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সাত দিনের ‘ভোট-কেন্দ্রিক’ বিশেষ মোতায়েন নিশ্চিত করা হবে। এই প্রথম জাতীয় নির্বাচনে ড্রোন নজরদারি ও বডি-ওর্ন ক্যামেরার মতো প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে, যার কেন্দ্রীয় সমন্বয় করবে সশস্ত্র বাহিনী।
















