নীরব এলাকায় শব্দদূষণ রোধে পুলিশকে সরাসরি জরিমানার ক্ষমতা; সর্বোচ্চ শাস্তি ৩ মাসের কারাদণ্ড
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং এর পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) রাতে ডিএমপি সদর দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, বিমানবন্দর ও সংলগ্ন ‘নীরব এলাকায়’ হর্ন বাজালে এখন থেকে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা তিন মাসের কারাদণ্ড, কিংবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে হবে। শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা ২০২৫-এর আওতায় পুলিশকে এখন থেকে সরাসরি জরিমানা আরোপের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এর ফলে স্কলাস্টিকা স্কুল থেকে হোটেল ‘লা মেরিডিয়ান’ পর্যন্ত সড়কে হর্ন বাজানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া গুলশান, বনানী ও বারিধারা এলাকাকেও এই বিশেষ নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগে বিমানবন্দর এলাকাকে ‘নীরব এলাকা’ ঘোষণা করার পর থেকেই জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করছিল পুলিশ। তবে এবার সরাসরি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের ঘোষণা দিয়ে মাঠে নামছে ডিএমপি।
যেসব এলাকায় হর্ন বাজানো নিষিদ্ধ
ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগ জানায়, উত্তর-দক্ষিণে প্রায় ১.৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে এই বিধিনিষেধ কার্যকর থাকবে:
- প্রধান রুট: উত্তরার স্কলাস্টিকা স্কুল থেকে শুরু করে বিমানবন্দর হয়ে খিলক্ষেতের হোটেল ‘লা মেরিডিয়ান’ পর্যন্ত।
- আভিজাত্য এলাকা: গুলশান, বনানী, বারিধারা এবং নিকেতন এলাকাও এই নীরব জোনের অন্তর্ভুক্ত।
- শাস্তির বিধান: সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮-এর ৮৮ ধারা এবং নতুন শব্দদূষণ বিধিমালা অনুযায়ী, আইন অমান্যকারীদের তাৎক্ষণিক জরিমানা বা আইনি প্রক্রিয়ায় কারাদণ্ড দেওয়া হবে।
পুলিশের নতুন ক্ষমতা ও আইনের প্রয়োগ
উপ-পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জানান, নতুন বিধিমালা অনুযায়ী পুলিশকে কিছু বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে:
১. তাৎক্ষণিক জরিমানা: শব্দদূষণ রোধে এখন থেকে ঘটনাস্থলেই পুলিশ সরাসরি জরিমানা আদায় করতে পারবে।
২. নজরদারি: নীরব এলাকাগুলোতে ট্রাফিক পুলিশের বিশেষ দল মোতায়েন থাকবে যারা শব্দ মাপার যন্ত্র বা সাউন্ড লেভেল মিটারের মাধ্যমে নজরদারি করবে।
৩. জনস্বার্থ: উচ্চমাত্রার হর্ন বিশেষ করে বিমানবন্দর এলাকায় যাত্রী, শিক্ষার্থী ও অসুস্থ ব্যক্তিদের জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে বিধায় এই কঠোরতা অবলম্বন করা হচ্ছে।
নগরবাসীর প্রতি ডিএমপির আহ্বান
ডিএমপি কমিশনারের পক্ষে বার্তায় জানানো হয় যে, একটি আধুনিক ও বসবাসযোগ্য ঢাকা গড়তে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ করা অপরিহার্য। গাড়ি চালক ও মালিকদের হর্ন বাজানোর অভ্যাস ত্যাগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। বিশেষ করে জরুরি অ্যাম্বুলেন্স বা ফায়ার সার্ভিস ব্যতিরেকে অন্য কোনো যানবাহন যেন এই এলাকায় হর্ন ব্যবহার না করে, সে বিষয়ে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
















