জাম্বিয়ায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। বর্তমান প্রেসিডেন্ট হাকাইন্দে হিচিলেমা দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় থাকার জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে তার সরকারের নেওয়া সংস্কার কর্মসূচি কতটা সফল হয়েছে, এবারের নির্বাচনেই তার বড় পরীক্ষা হবে।
বৃহস্পতিবার সকালে দেশটির ভোটকেন্দ্রগুলোতে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। প্রায় ৮৭ লাখ ভোটার এই নির্বাচনে ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধিত হয়েছেন। ভোটগ্রহণ ১২ ঘণ্টা চলার কথা রয়েছে।
হিচিলেমা সরকারের আমলে মূল্যস্ফীতি কমেছে এবং দেশটির মুদ্রার অবস্থানও কিছুটা শক্তিশালী হয়েছে। তবে সাধারণ মানুষের বড় অংশ এখনো খাদ্য ও জ্বালানির উচ্চমূল্যের চাপে রয়েছে। বেকারত্বও উল্লেখযোগ্য পর্যায়ে রয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জাম্বিয়ার প্রায় ২ কোটি ২০ লাখ মানুষের মধ্যে ৭০ শতাংশের বেশি মানুষ দৈনিক তিন ডলারের কম আয়ে জীবনযাপন করেন। ফলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পরিসংখ্যানের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার বাস্তব পরিস্থিতিই এবারের নির্বাচনে বড় ইস্যু হয়ে উঠেছে।
জাম্বিয়া দীর্ঘদিন ধরে আফ্রিকার তুলনামূলক স্থিতিশীল গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে পরিচিত। তবে হিচিলেমা সরকারের বিরুদ্ধে মতপ্রকাশের সুযোগ সংকুচিত করার অভিযোগও উঠেছে। অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি রাজনৈতিক স্বাধীনতা ও বিরোধীদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
ষাটের বেশি বয়সী হিচিলেমা ২০২১ সালে ষষ্ঠবারের প্রচেষ্টায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হন। এবার তিনি কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বড় অবকাঠামো উন্নয়ন কর্মসূচির ওপর জোর দিয়ে দ্বিতীয় ও শেষ পাঁচ বছরের মেয়াদ নিশ্চিত করতে চাইছেন।
তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ব্রায়ান মুন্ডুবিলে। তিনি দেশটির সাবেক ক্ষমতাসীন দল দেশপ্রেমিক ফ্রন্ট সরকারের সাবেক মন্ত্রী ছিলেন। মোট ১৪ জন প্রার্থী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
মুন্ডুবিলে বিরোধী দলগুলোর একটি জোটের সমর্থন পেয়েছেন। তিনি নতুন গঠিত একটি রাজনৈতিক দলের হয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন, যার বড় রাজনৈতিক ভিত্তি সাবেক ক্ষমতাসীন দলের সমর্থকদের মধ্যে।
নির্বাচনের আগে মুন্ডুবিলে অভিযোগ করেছেন, তার দলের প্রচারণার ওপর সরকার নানা বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। তার দাবি, নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু পরিবেশে হচ্ছে না।
বিরোধী প্রার্থী বলেছেন, তারা জয়ী হলে দেশে রাজনৈতিক ও সামাজিক পুনর্মিলনের মাধ্যমে একটি নতুন সূচনা করবেন। তার ভাষায়, বিভক্ত একটি দেশে বড় ধরনের উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া কঠিন।
প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পাশাপাশি বৃহস্পতিবার সংসদের ২২৬টি আসনের জন্যও ভোট হচ্ছে। আগের নির্বাচনে সংসদের আসন সংখ্যা ছিল ১৫৬টি। দেশটির রাজনীতিতে অঞ্চলভিত্তিক ভোটের প্রবণতাও গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলে হিচিলেমার দল তুলনামূলক শক্তিশালী, অন্যদিকে উত্তরাঞ্চল ও তামা উৎপাদনকারী অঞ্চলের কিছু এলাকায় সাবেক ক্ষমতাসীন দলের সমর্থন রয়েছে।
প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফল ১৭ আগস্টের মধ্যে প্রকাশের প্রত্যাশা করা হচ্ছে। কোনো প্রার্থী ৫০ শতাংশের বেশি ভোট না পেলে দ্বিতীয় দফায় ভোট হতে পারে।















