বুলগেরিয়ার প্রেসিডেন্ট রুমেন রাদেভ ঘোষণা দিয়েছেন যে তিনি পদত্যাগ করছেন। দেশটিতে আসন্ন আগাম নির্বাচনের আগে তিনি নিজের রাজনৈতিক দল গঠন করতে পারেন বলে জল্পনা তৈরি হয়েছে।
সোমবার এক টেলিভিশন ভাষণে রাদেভ বলেন, তিনি পরদিন দেশের সাংবিধানিক আদালতে পদত্যাগপত্র জমা দেবেন। আদালত অনুমোদন দিলে ভাইস প্রেসিডেন্ট ইলিয়ানা ইয়োতোভা তাঁর স্থলাভিষিক্ত হবেন।
৬২ বছর বয়সী রাদেভ বলেন, আজই বুলগেরিয়ার প্রেসিডেন্ট হিসেবে জাতির উদ্দেশে তাঁর শেষ ভাষণ। তিনি জানান, দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের লড়াইয়ে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে চান।
কমিউনিজম পরবর্তী সময়ে এই প্রথম বুলগেরিয়ার কোনো রাষ্ট্রপ্রধান পদত্যাগ করছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটোর সদস্য দেশ বুলগেরিয়া দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক অস্থিরতায় ভুগছে।
গত ডিসেম্বরে ব্যাপক দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের মুখে দেশটির সরকার ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হয়। ওই আন্দোলনের প্রকাশ্য সমর্থক ছিলেন বামঘেঁষা রাদেভ। আসন্ন নির্বাচন হবে গত পাঁচ বছরে বুলগেরিয়ার অষ্টম সংসদ নির্বাচন।
কেন্দ্র ডানপন্থী গার্ব দলের নেতৃত্বাধীন জোট সরকার গত মাসে বড় বিক্ষোভের কারণে পদত্যাগ করে। বর্তমান সংসদে নতুন সরকার গঠনের সব চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় দেশ আবারও নির্বাচনের পথে যাচ্ছে।
২০২৬ সালে রাদেভের দ্বিতীয় মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল। সাবেক এই বিমানবাহিনী প্রধান বারবার ইঙ্গিত দিয়েছেন যে তিনি নতুন নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন। তিনি গার্ব দলের নেতা বয়কো বরিসভের কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিত।
রাদেভ আরও বিরোধিতা করেছেন প্রভাবশালী রাজনীতিক ও ধনকুবের দেলিয়ান পেভস্কির, যাঁর বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি ও গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। পেভস্কির দল এমআরএফ নিউ বিগিনিং বারবার বিদায়ী গার্ব জোটকে সমর্থন দিয়েছে।
ইউরোজোনে যোগ দেওয়া নিয়েও রাদেভ সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তিনি ইউক্রেনে সামরিক সহায়তা পাঠানোর বিরোধী এবং ইউরোপীয় নেতাদের সমালোচনা করেছেন, শান্তিচুক্তির জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগকে যথেষ্ট সমর্থন না দেওয়ার কারণে।
সোমবারের বক্তব্যে রাদেভ ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা স্পষ্ট করেননি। তবে সম্প্রতি নতুন দল গঠনের বিষয়ে তিনি বলেন, এমন একটি রাজনৈতিক শক্তি দরকার যা বাম ও ডান সব গণতান্ত্রিক মানুষকে একত্র করবে, যাতে সুষ্ঠু নির্বাচন ও স্বাধীন গণতান্ত্রিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা যায়।
মার্কেট লিংকসের সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, রাদেভের জনপ্রিয়তা প্রায় ৪৪ শতাংশ। বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনে ভালো ফল করলে তা বুলগেরিয়ার চলমান রাজনৈতিক সংকট থেকে বেরিয়ে আসার পথ তৈরি করতে পারে।
















