রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক দফা ও গণভোট—সব মিলিয়ে নতুন বছরের পথে অনিশ্চয়তা
গত বছর বাংলাদেশে রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা প্রবলভাবে দেখা গেছে। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া অসুস্থ অবস্থায় দেশে ফিরেছেন তারেক রহমানের নেতৃত্বে।
২০২৫ সালে ক্ষমতা পরিবর্তনের চেষ্টা হয়েছিল, কিন্তু সহিংসতা, হামলা-সংঘর্ষ ও রাজনৈতিক বিভাজনের ছায়া পুরো বছর ধরে দেশের উপর থেকেছে। জুলাই জাতীয় সনদ এবং সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে একই দিনে গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতবিরোধ পুরোপুরি মিটে যায়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, শান্তিপূর্ণ নির্বাচন এবং গণভোট সফল হলে দেশ কাঙ্ক্ষিত রূপান্তরের পথে এগোতে পারবে। তবে বাস্তবায়ন, নাগরিক অধিকার ও সংস্কারের প্রতি রাজনৈতিক সদিচ্ছা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ।
অর্থনীতিতেও মিশ্র চিত্র দেখা গেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের শুরুতে জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমে ৩.৬৯ শতাংশে দাঁড়ায়। তৃতীয় প্রান্তিকে কিছুটা উন্নতি আসে, ৪.৮৬ শতাংশে পৌঁছলেও বছরের শেষদিকে খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগের ধীরগতি অর্থনৈতিক অগ্রগতি সীমিত রাখে।
শহর ও দেশের বিভিন্ন স্থানে সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ও সংবাদপত্রের উপর হামলা, রাজনৈতিক সহিংসতা, ‘মব’ সংঘটিত হওয়ার ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০২৬ সালে এই অনিশ্চয়তা কাটাতে হবে যাতে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া দৃঢ় হয়।
বিএনপি ও জামায়াতের নেতৃত্বে রাজনৈতিক জোটগুলি রাষ্ট্র সংস্কার নিয়ে পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে, তবে নির্বাচনী মাঠে তাদের কার্যক্রম কেমন হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে রাজনীতির নতুন মেরুকরণও দেখা যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ২০২৬ হবে সেই বছর, যখন দেশের রূপান্তর এবং অনিশ্চয়তার মধ্যে ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে। শান্তিপূর্ণ নির্বাচন, গণভোট ও রাজনৈতিক সদিচ্ছার ভিত্তিতেই সম্ভব হবে দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ।















